জ্বালানি সরবরাহে ইতিবাচক সংবাদ: ডিজেল, এলএনজি ও এলপিজি নিয়ে দেশে এসেছে আরও চারটি জাহাজ
দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক সংবাদ এসেছে। ডিজেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে সম্প্রতি দেশে আরও চারটি জাহাজ এসেছে। এই জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে বা পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিঙ্গাপুর থেকে আসা ডিজেলবাহী জাহাজ নোঙর করেছে
সিঙ্গাপুর থেকে আসা এমটি ইউয়ান জিং হে নামের একটি জাহাজ ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো নবম জাহাজ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে জাহাজটি ডলফিন জেটিতে নোঙর করেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক ফারজিন হাসান মোমিতা।
মালয়েশিয়া থেকে আসা আরেকটি জাহাজ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে
বন্দর সচিব সৈয়দ রফায়েত হামিম জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে শান গ্যাং ফা ঝান নামের আরেকটি জাহাজ বন্দরের কাছাকাছি রয়েছে। জাহাজটি বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং শুক্রবার রাতে সেটি বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই জাহাজটির আগমন জ্বালানি সরবরাহে আরও গতি আনতে পারে।
এলপিজি ও এলএনজি নিয়ে দুটি বড় জাহাজ পৌঁছেছে
এছাড়াও, দুটি বড় জাহাজ এলপিজি ও এলএনজি নিয়ে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। এই জাহাজগুলো জ্বালানি সরবরাহ চেইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে। সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানির প্রক্রিয়ায় থাকা তেল ও গ্যাসের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকেও জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে, যা এই জাহাজগুলোর আগমনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত। চট্টগ্রাম বন্দরের কর্তৃপক্ষ বলছে, জাহাজগুলো দ্রুততম সময়ে খালাস করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই জাহাজগুলোর আগমন জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনতে পারে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন।



