বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের নতুন কর্মকৌশল: প্রতিদিন ৩১০০ মেগাওয়াট সাশ্রয়ের লক্ষ্য
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার প্রভাবে সৃষ্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার একটি নতুন সমন্বিত কর্মকৌশল গ্রহণ করেছে। এই কৌশলের আওতায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে প্রভাব এবং এ সংকট মোকাবিলায় গৃহীত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মকৌশল পর্যালোচনা করা হয়। অর্থ বিভাগের প্রণীত অর্থায়ন কৌশল-সংবলিত কর্মপরিকল্পনাও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রণীত সমন্বিত কর্মকৌশলে প্রতিদিন প্রায় ৩১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান, সারের উৎপাদন, মজুত ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিতকরণ এবং শিল্প উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সময়সীমা নির্ধারণ
সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে, তবে ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চালু থাকবে। জরুরি সেবা ছাড়া সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করতে হবে।
এছাড়া, আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত কর্মকৌশল বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



