হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতে পাকিস্তানের জ্বালানি সংকট তীব্র
হরমুজ প্রণালিতে বন্ধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাবে পাকিস্তান তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো জ্বালানি তেলের দাম বড় পরিসরে বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। নতুন ঘোষণায় পাকিস্তানে ডিজেলের দাম প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ফলে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২০.৩৫ রুপি এবং পেট্রোলের দাম হয়েছে ৪৫৮.৪০ রুপি। কেরোসিন তেলের দামও বাড়িয়ে ৪৫৭.৮০ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘোষণা দেওয়ার পরপরই দেশজুড়ে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রীর বক্তব্য: সংকট অনিবার্য
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এই সিদ্ধান্তকে অনিবার্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে জনগণকে সহায়তা দিতে সরকার প্রায় ১২৯ বিলিয়ন রুপি ভর্তুকি দিয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন এ ভর্তুকি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মত: আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিকৃত তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই পাকিস্তানের সংকটকে তীব্র করেছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা তেল হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আসে, যা বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানান, এখন থেকে সরকার ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেবে। মোটরসাইকেল চালক, ক্ষুদ্র কৃষক ও পরিবহন খাতকে বিশেষ ভর্তুকি দেওয়া হবে। এছাড়া রেলপথ ব্যবহারকারী স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্যও সহায়তা পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা
এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সরাসরি পরিবহন, কৃষি এবং দৈনন্দিন পণ্যের মূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে, যা অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তুলবে। সরকারের লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা পরিকল্পনা এই প্রভাব কিছুটা কমাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।



