বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন সময়সূচি: অফিস-ব্যাংক-দোকানের সময় পরিবর্তন
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি অফিস, দোকানপাট এবং ব্যাংকের সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। আগামী রোববার, ৫ এপ্রিল থেকে এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসে এসব তথ্য বিস্তারিতভাবে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
অফিস ও ব্যাংকের নতুন সময়সূচি
নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে, সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের অফিস এখন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। আগে যেখানে অফিসের সময় এক ঘণ্টা বেশি ছিল, এখন তা এক ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংকিং কার্যক্রমও নতুন সময়সূচির আওতায় আনা হয়েছে। ব্যাংকগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত লেনদেন কার্যক্রম চালাবে। তবে দিনের শেষে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে ব্যাংকগুলো বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ হবে। এই পরিবর্তন মূলত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
দোকানপাটের সময়সীমা নির্ধারণ
অপরদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে দেশের সব মার্কেট, শপিংমল ও সাধারণ দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু জরুরি সেবা খাতকে এ নির্দেশনার বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান এবং খাবারের দোকান। এসব প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ের পরও প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা রাখতে পারবে। এছাড়াও জরুরি সেবার মধ্যে ফার্মেসিগুলোকে বিশেষভাবে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা রাত পর্যন্ত বা প্রয়োজন হলে ২৪ ঘণ্টাও খোলা থাকতে পারবে। একইসঙ্গে হাসপাতাল-সংলগ্ন দোকান, জরুরি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কিছু নির্দিষ্ট দোকানও এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয় নির্দেশনায়।
মনিটরিং ও বাস্তবায়ন
জানা যায়, সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে কঠোরভাবে মনিটরিং করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন সময়সূচি কার্যকর হলে জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, তবে জরুরি সেবাগুলো অক্ষত থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।



