বিশ্ববাজারে জ্বালানি অস্থিরতা, বাংলাদেশে দাম অপরিবর্তিত
চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা ও উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে, সরকার আপাতত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
এপ্রিল মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি বিভাগ থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে যে, এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত)’ অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা বহাল রাখা হয়েছে। এই নতুন মূল্য ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নতুন দাম ঘোষণা হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি
মনির হোসেন চৌধুরী আরও জানান, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। মজুদের বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
- ডিজেল: এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন
- অকটেন: সাত হাজার ৯৪০ টন
- পেট্রোল: ১১ হাজার ৪৩১ টন
- জেট ফুয়েল: ৪৪ হাজার ৬০৯ টন
এপ্রিল মাসে আরও প্রায় দেড় লাখ টন ডিজেল দেশে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “জ্বালানি সংকটের কোনও আশঙ্কা নেই। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল, যা মূলত কৃষি ও গণপরিবহনে ব্যবহৃত হয়।”
জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারের উদ্যোগ
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ বিবেচনায় রাখছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো
- অফিসের সময় কমানো
- অনলাইন ক্লাস চালু করা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও সরকার আশ্বস্ত করেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে।



