জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় পেট্রলপাম্প মালিকদের জরুরি আহ্বান
বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পেট্রলপাম্প মালিকদের সংগঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
নিরাপত্তা জোরদার ও মনিটরিং বৃদ্ধির দাবি
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেশের পেট্রলপাম্পগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সরকারি মনিটরিং বৃদ্ধি এবং বিশৃঙ্খলা রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, "দেশের পেট্রলপাম্পগুলো সরকার নির্ধারিত দামে নিয়মিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করে আসছে।" তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে যোগ করেন, "মালিক ও কর্মীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করলেও বিভিন্ন স্থানে পাম্পে হামলা, কর্মীদের লাঞ্ছনা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।"
আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান
সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে সরকার সাময়িকভাবে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম উল্লেখ করেন, "সরকারের দাবি অনুযায়ী দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত আছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।" তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ বা 'প্যানিক বায়িং' থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং অনেকেই প্রয়োজনীয় তেল থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন। ব্যক্তিগতভাবে তেল মজুত করা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
আট দফা প্রস্তাব উপস্থাপন
সংগঠনটি সংবাদ সম্মেলনে আট দফা প্রস্তাব তুলে ধরে, যা জ্বালানি তেল সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে:
- পেট্রলপাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
- তেল সরবরাহে সমন্বয় বৃদ্ধি
- ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি
- হুমকি বা বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা
- পেট্রল ও অকটেন বিক্রির সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা নির্ধারণ
- উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা জোরদার
- ট্যাংকলরিতে পূর্ণ ধারণক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ করা
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, রাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পেট্রল ও অকটেন সরবরাহ সীমিত রাখার প্রস্তাব করা হলেও ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। এটি করা হয়েছে যাতে গণপরিবহন চলাচলে কোনো সমস্যা না হয়।
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
কৃত্রিম সংকট তৈরি করার অভিযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির আহ্বায়ক বলেন, "কোনো পাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, এমনকি ডিলারশিপ বাতিলও করা যেতে পারে।" তিনি ব্যাখ্যা করেন, ট্যাংকে কিছু তেল রেখে সরবরাহ বন্ধ করার প্রযুক্তিগত কারণ আছে—পুরো ট্যাংক খালি হয়ে গেলে 'এয়ারলক' তৈরি হয়, যা আবার চালু করতে সময় লাগে।
অবৈধভাবে তেল বিক্রির বিষয়ে সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলচালকেরাই ট্যাংক পূর্ণ করে বাইরে বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন। তবে তিনি নিশ্চিত করেন, অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংগঠন নিজেও ব্যবস্থা নেবে এবং সরকারকে সহায়তা করবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্যসচিব মীর আহসান উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রতনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে কান না দিয়ে পাম্প থেকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে তেল সংগ্রহ করার এবং পাম্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।



