চট্টগ্রামে অবৈধ তেল ডিপোতে অভিযান: জব্দ ২৫ হাজার লিটার ডিজেল
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের সিডিএ আবাসিক এলাকায় রেললাইনের নিকটে অবস্থিত একটি কালো তেলের ডিপো থেকে প্রায় ২৫ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। আজ সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালনা করেন সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
সরেজমিনে দেখা গেছে, সিডিএ আবাসিক এলাকার সড়কের পাশে টিনের ঘেরা দেওয়া ডিপোটিতে একটি চতুষ্কোণ ট্যাংক এবং ভেতরে শতাধিক ছোট ড্রাম স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ডিপোর অভ্যন্তরে ট্যাংক লরি ও অন্যান্য ট্যাংকে জ্বালানি তেল মজুত করা ছিল। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সন্ধ্যায় অভিযানস্থলে উপস্থিত হয়ে অবৈধ মজুত পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির সহকারী মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন শেখ জাহিদ আহমেদ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। ডিপোর মালিক পক্ষের কাউকে না পাওয়া গেলেও প্রায় ২৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত তেল আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই, সিঙ্গাপুর থেকে একটি তেলের জাহাজ এসেছে এবং আরও ১০টি জাহাজ পথে রয়েছে। তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার আশায় মানুষকে জিম্মি করে অবৈধভাবে তেল মজুত করছেন।
অন্যান্য অভিযান ও জরিমানা
একই দিনে, চট্টগ্রাম নগরের বন্দর এলাকায় আনোয়ারা জাকারিয়া ফিলিং স্টেশনে আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে তেল নেই বলে দড়ি টেনে প্রবেশপথ বন্ধ রাখা সত্ত্বেও ৭ হাজার ৭৩৪ লিটার ডিজেল ও ৩৭৪ লিটার অকটেন মজুত পাওয়া যায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আমিরুল মোস্তফা অভিযানে অংশ নিয়ে বলেন, স্টেশনটিতে তেলের পরিমাপে কারচুপি করা হচ্ছিল এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছিল। এই অনিয়মের জন্য ফিলিং স্টেশনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবারও ছয় হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত অবৈধ জ্বালানি মজুত, কালোবাজারিসহ বিভিন্ন অপরাধে ৯৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং চার লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। যমুনা ওয়েল কোম্পানির এজিএম ক্যাপ্টেন শেখ জাহিদ আহমেদ প্রাথমিকভাবে জব্দকৃত তেল ডিজেল বলে নিশ্চিত করেছেন, তবে এর মান বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা করে জানাবে।
এই অভিযানগুলি জ্বালানি সংকটের মাঝে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে। জেলা প্রশাসন অবৈধ মজুতকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।



