ট্যাংকলরি শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারে উত্তরে তেল সরবরাহ শুরু, তবুও দিনাজপুরে সংকট অব্যাহত
ট্যাংকলরি শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর পার্বতীপুর রেলহেড ডিপো থেকে উত্তরের আট জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে দিনাজপুরে এখনও তীব্র জ্বালানি সংকট বিরাজ করছে, যার ফলে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। রবিবার রাত থেকেই কর্মবিরতিতে থাকা শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বিরতির কারণে সরবরাহে জটলা দেখা দিয়েছে।
গ্রাহকদের ক্ষোভ ও হয়রানি
দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন তেলের আশায়। রহমান ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে শরিফুল ইসলাম বলেন, "গত কয়েকদিন ধরেই তেল সংকট চলছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আর পাওয়া গেলেও তা চাহিদা অনুযায়ী নয়। ২০০ টাকার তেল পেয়েছি পাঁচ দিন আগে। আমি চাকরিজীবী, কাজ বাদ দিয়ে লাইনে দাঁড়াতে পারি না।"
সিরাজুল ইসলাম, যিনি একটি এনজিওতে চাকরি করেন, তিনি যোগ করেন, "সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ডিউটি করি। কখন তেল দেবে, তা খোঁজ রাখতে পারি না। এখন এই পাম্পে এসে দেখি তেল দিচ্ছে না, আর কোন পাম্পে দেওয়া হবে তাও কেউ বলতে পারছে না। তেল না পেলে কাজ ঠিকভাবে করতে পারছি না।"
পাম্প ব্যবস্থাপনায় অনিশ্চয়তা
সুইহাড়ী পেট্রোল পাম্পে মিলন রায় বলেন, "মেয়েকে স্কুলে দিতে এবং দোকানের কাজে যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল অপরিহার্য। সকাল ৮টায় এসেছি, কিন্তু তেল দেওয়া হচ্ছে না, এভাবেই দাঁড়িয়ে আছি।" বিপ্লব নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে পাম্পে এসেছেন, কিন্তু বেলা ১১টা পর্যন্ত তেলের কোনো খবর নেই। তিনি অভিযোগ করেন, "অনেকেই আছেন যাদের প্রয়োজন নেই, তারাই মূলত সমস্যা তৈরি করছে।"
জাহিদুল ইসলাম বলেন, "শুনেছিলাম বেলা ১১টায় তেল দেওয়া হবে, পরে বলা হলো বিকাল ৩টা, আবার শুনছি বিকেল ৫টায়। কখন দেবে জানি না, তবে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে বলে শুনেছি। বেশি করে তেল দিলে এবং সব পাম্পে একসঙ্গে সরবরাহ করলে সমস্যা থাকবে না।"
ট্যাংকলরি শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও প্রত্যাহার
রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান জানান, তেল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত তিন শ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানার প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে রংপুর বিভাগের আট জেলায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করা হয়। এতে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে উত্তরের জেলাগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে রবিবার বিকালে প্রশাসন জেল হাজতে পাঠানো তিন শ্রমিককে মুক্তি দেওয়া এবং নীলফামারীর এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়াকে অপসারণের আশ্বাস দিলে, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
রবিবার সন্ধ্যা থেকেই ট্যাংকলরির স্লিপ দেওয়া শুরু হয় এবং উত্তরের আট জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ পুনরায় চালু হয়। এখন পুরোদমে ট্যাংকলরিগুলো পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ করছে বলে জানানো হয়েছে।
পাম্প ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ
রহমান ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম বলেন, "সোমবার সকালে এই পাম্পে তেল আসার কথা ছিল, কিন্তু ট্যাংকলরি শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে তা পৌঁছায়নি। কখন পৌঁছাবে, তা ঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। এজন্য এই পাম্প থেকে পেট্রোল ও অকটেন তেল দেওয়া হচ্ছে না, তবে ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।"
এই পরিস্থিতিতে দিনাজপুরের সাধারণ মানুষ জ্বালানি সংকটে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন।



