তেল সংকটের আশঙ্কা দূর করে জ্বালানি বিভাগের আশ্বাস
দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার ও ডিজেল সরবরাহের নির্দেশনা
যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য ক্লিয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওদের মাধ্যমে যাতে কৃষকরা সহজে ডিজেল পেতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বহুমুখী তেল আমদানি উদ্যোগ
তেল আমদানির প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানান:
- রাশিয়া থেকে দুই মাসের জন্য ৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও অনুমতি চাওয়া হয়েছে, কারণ কিছু দেশে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে।
- ইতোমধ্যে ভারত থেকে ২২ হাজার টন ডিজেল এসেছে।
- ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল আনার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের জাহাজ হরমুজ দিয়ে আসতে সমস্যা নেই। কিন্তু সব জাহাজ বাংলাদেশের পতাকাবাহী হয় না। এখানেই সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বর্তমান মজুত ও আগামী আমদানি পরিকল্পনা
বর্তমান মজুতের তথ্য তুলে ধরে যুগ্মসচিব বলেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল মজুত রয়েছে। ৩০ মার্চ ও ৩ এপ্রিল আরও ৫৪ হাজার ৬০০ টন তেল আসবে। পাশাপাশি এপ্রিল মাসে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আরও ১ লাখ ৫৪ হাজার টন তেল আমদানি করা হবে।
সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পদক্ষেপ
সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে কোনো সংকট সৃষ্টি না হয়। তিনি জনগণকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেন এবং তেলের পর্যাপ্ত মজুত ও আমদানি প্রক্রিয়া চলমান থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেন।



