চট্টগ্রামে অকটেন সংকট: মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি
চট্টগ্রাম নগরে অকটেনের তীব্র সংকটে মোটরসাইকেল চালকরা বিপাকে পড়েছেন। আবদুর রহিমের মতো অনেক চালককে ১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০০ টাকার তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এই সংকটে দৈনন্দিন কাজকর্ম ও আয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
ঘুরতে ঘুরতে তেলের সন্ধান
আবদুর রহিম সকালে রাহাত্তারপুলের বাসা থেকে বের হয়ে চারটি ফিলিং স্টেশন ঘুরেছেন। কোথাও তেল পাননি। শেষ পর্যন্ত দামপাড়ায় এস এইচ খান অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে ঘণ্টাখানেক লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০০ টাকার অকটেন পেয়েছেন। তিনি বলেন, "১৫ কিলোমিটার ঘুরে ৩০০ টাকার তেল পেলাম। অন্তত ৫০০ টাকার পেলে দুই দিন চালাতে পারতাম।" ছোট ব্যবসার জন্য প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয় তার, কিন্তু সময় ও জ্বালানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
ফিলিং স্টেশনগুলোর অবস্থা
নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে একই চিত্র দেখা গেছে:
- ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনে অকটেন নেই, বিক্রি বন্ধ। হিসাবরক্ষক মো. আবসার জানান, ২৭ মার্চ সাড়ে চার হাজার লিটার অকটেন পাওয়ার পর আর তেল আসেনি। পদ্মা অয়েল থেকে জানানো হয়েছে, আরও এক-দুই দিনের আগে তেল পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
- হাশমিক্যাল মোড়ের সেনা ফিলিং স্টেশনে "অকটেন নেই" লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। কর্মচারীরা বলছেন, বিকেলে তেল আসতে পারে এবং বিকেল চারটার পর বিক্রি শুরু হবে।
- দামপাড়ার সিএমপি ফিলিং স্টেশন ও টাইগারপাস এলাকার কিছু স্টেশনে দুপুর পর্যন্ত বিক্রি বন্ধ ছিল। তেল এসেছে, তবে সীমিত পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে।
চালকদের ভোগান্তি ও আয়ে প্রভাব
মোটরসাইকেলচালক মোহাম্মদ রেজাউল জানান, এক সপ্তাহ আগে শেষবার তেল নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, "সরকার বলছে সংকট নেই, কিন্তু বাস্তবে পাম্পে এসে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কাজের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।" আরেক চালক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা আয় করেন, কিন্তু তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় আয় কমে যাচ্ছে।
সরবরাহ ব্যবস্থার চাপ
ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই তেলের সরবরাহ কমে গেছে। আগে যতটা তেল পাওয়া যেত, এখন তার প্রায় অর্ধেক আসছে। পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রামের সভাপতি আহসানুর রহমান চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম বিভাগে দুই শতাধিক ফিলিং স্টেশন থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রলের ঘাটতি বেশি।
সমাধানের উদ্যোগ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোটরসাইকেলচালকদের একটি কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় কে কতটুকু তেল নিচ্ছেন, তা নথিভুক্ত থাকবে, ফলে সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কিছুটা শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানিসংকট দেখা দেয়, যার প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও পড়েছে। সরবরাহ কমানো হয়েছে, ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, কিন্তু অনেক ফিলিং স্টেশন আগের তুলনায় দ্বিগুণ বা তিন গুণ চাহিদা দিচ্ছে, যা সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি করছে।



