বগুড়ায় জ্বালানি তেল সংকটে নতুন বিধিনিষেধ: হেলমেট ও কাগজপত্র যাচাই বাধ্যতামূলক
বগুড়া জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি, যা স্থানীয় জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত ৭২টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি প্রায় তেলশূন্য অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে দৈনন্দিন যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ
এ সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। রবিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন। এখন থেকে হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির কাগজপত্র না থাকলে কোনো পাম্প থেকে তেল দেওয়া হবে না।
জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানান, জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের যৌথ চেকপোস্ট বসানো হবে, যেখানে গাড়ির কাগজপত্র যাচাই করা হবে। এ ছাড়া প্রতিটি পাম্পে এসব নির্দেশনা সংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কঠোর মনিটরিং চালানো হবে।
ফিলিং স্টেশনের বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান রতন জানান, এ জেলায় ছোট-বড় মোট ৭২টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। সংকটের শুরুতে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় অর্ধেকের বেশি পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হলেও সংকট কাটেনি; অনেক পাম্প এখনও বন্ধ রয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভবিষ্যতের আশা
মিজানুর রহমান রতন আশা প্রকাশ করেন যে, খুব শিগগিরই সব ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল পৌঁছে যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে, জেলা প্রশাসনের নতুন বিধিনিষেধের কারণে স্থানীয়রা আরও সতর্কতার সাথে যানবাহন পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই সংকটের প্রভাব কাটাতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



