সীতাকুণ্ডে পেট্রলপাম্প তদারকিতে ট্যাগ অফিসারদের নিয়োগ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় পেট্রলপাম্পগুলোতে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আজ রোববার সকাল থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত 'ট্যাগ অফিসাররা' নির্ধারিত পাম্পগুলো পরিদর্শন শুরু করেছেন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রতিদিনের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্যাগ অফিসারদের নিয়োগ ও দায়িত্ব
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জ্বালানি তেল অপচয় ও চোরাচালান ঠেকাতে ১৭ মার্চ ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম বিভিন্ন দপ্তরের ২৪ কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেন। সীতাকুণ্ডে মোট ২৬টি পেট্রলপাম্প তদারকিতে তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, নিয়োগের বিষয়টি তাঁরা গতকাল শনিবার জানতে পারেন। এরপর আজ মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন।
সীতাকুণ্ড সদরের টেকনো ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জামিরুল ইসলাম সকালে পাম্পের রেজিস্টার ও মেশিনের তথ্য মিলিয়ে দেখেন। পরিদর্শন শেষে তিনি একটি প্রতিবেদন জমা দেন। জামিরুল ইসলাম বলেন, 'কোনো পাম্পে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত রাখা হয়েছে কি না এবং তেল কোম্পানি থেকে সরবরাহ ও বিক্রির হিসাবের মধ্যে অমিল আছে কি না, এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। প্রথম দিনে উল্লেখযোগ্য কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি, তবে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।'
অনিয়মে জরিমানা ও অকটেন সংকট
ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, গতকাল চারটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে তিনটিতে অনিয়ম না মিললেও ভাটিয়ারী ফিলিং স্টেশনে ক্রয় রেজিস্টার ও মজুতের তথ্যের অমিল পাওয়া যায়। এ কারণে এই ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে, উপজেলার ভাটিয়ারী স্টেশন এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে ভাটিয়ারী ফিলিং স্টেশন এবং বিপরীত পাশে চট্টগ্রামমুখী লেনে বিএনএস সোনারগাঁ ফিলিং স্টেশনের সামনে ছোট ছোট ড্রাম বসিয়ে রশি টেনে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আজ সকাল আটটার দিকে দেখা যায় এ চিত্র। শুধু এ দুটি নয়, উপজেলার বিএসআরএম গেট থেকে মাদানীবিরহাট পর্যন্ত ১০টি ফিলিং স্টেশন ঘুরেও একই চিত্র পাওয়া যায়। ওই ১০ পাম্পের মধ্যে ছয়টি খোলা থাকলেও কোনোটিতে অকটেন নেই। এ কারণে মোটরসাইকেলের চালকেরা হতাশ হয়ে এসব ফিলিং স্টেশন থেকে ফিরে যাচ্ছেন। উপজেলার সোনারগাঁ ফিলিং স্টেশনের এক কর্মী বলেন, 'আজ বিকেল চারটার দিকে ডিপো থেকে অকটেন ও ডিজেল আসার কথা রয়েছে। তখন বিক্রি শুরু হবে।'
এই তদারকি কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের অপচয় ও চোরাচালান রোধে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। ট্যাগ অফিসারদের নিয়মিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে পাম্পগুলোর কার্যক্রম নজরদারি করা হবে, যা ভবিষ্যতে অনিয়ম কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



