প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিলের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল সরকার
প্রিপেইড মিটার মাসিক চার্জ বাতিল করল সরকার

প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিলের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল সরকার

বিদ্যুৎ খাতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ সম্পূর্ণরূপে বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। রোববার সাংবাদিকদের সাথে আলোচনাকালে মন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রাহক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, 'প্রিপেইড মিটারে বাড়তি চার্জ আদায় নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমরা পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। গ্রাহকদের সর্বোচ্চ অনুকূলে এবং একটি জনবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুতই এই মিটার চার্জ পদ্ধতি পুরোপুরি তুলে দিচ্ছি।'

বর্তমানে দেশের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের প্রতি মাসে রিচার্জের সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মিটার ভাড়া বা রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ হিসেবে কর্তন করা হয়। এই ব্যবস্থা নিয়ে বহু গ্রাহক বছরের পর বছর ধরে প্রশ্ন তুলে আসছেন। তাদের প্রধান যুক্তি হলো, মিটারের প্রকৃত দাম বহু আগেই উসুল হয়ে যাওয়ার পরও কেন বাড়তি টাকা কাটা হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগের সময়ে মিটার কেনার ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে তৈরি হওয়া বোঝা সাধারণ গ্রাহকদের ঘাড়ে চাপানো হয়েছিল। বর্তমান সরকার গ্রাহকের অর্থ সাশ্রয় এবং বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ বিদ্যুৎ গ্রাহক মাসিক অতিরিক্ত চার্জ থেকে মুক্তি পাবেন। সরকারের এই পদক্ষেপকে বিদ্যুৎ খাতের সংস্কারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মন্ত্রী টুকু আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এই পরিবর্তনের ফলে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের বিদ্যুৎ বিলে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বিদ্যুৎ সেবার মানোন্নয়নে এবং গ্রাহক অধিকার সুরক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।