যশোরের মণিরামপুরে অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ: ৭০০ লিটার পেট্রল-ডিজেল উদ্ধার
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় একটি ধানের আড়ত ও গুদামে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারা। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার খেদাপাড়া বাজারে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সংঘটিত হয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। সূত্রে জানা গেছে, খেদাপাড়া বাজারের জ্বালানি তেল বিক্রেতা তবিবর রহমান এবং পাশের ধান ব্যবসায়ী গোবিন্দ দাসের গুদামে প্লাস্টিকের চারটি ড্রামে বিপুল পরিমাণ তেল লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকালে অভিযান শুরু হলে প্রথমে গোবিন্দের আড়তে ধানের স্তূপের নিচ থেকে এক ড্রাম তেল উদ্ধার করা হয়।
পরে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের আলোকে তবিবরের নিজস্ব গুদাম থেকে আরও তিন ড্রাম তেল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের খবর আগে থেকে পেয়ে মূল অভিযুক্ত তবিবর রহমান পালিয়ে যান, যা অভিযানটিকে আরও জটিল করে তোলে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন যে তবিবর দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে তেল নেই বলে ফিরিয়ে দিতেন, অথচ গোপনে উচ্চমূল্যে পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করতেন।
জব্দকৃত তেলের পরিমাণ ও ব্যবস্থাপনা
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন জানান, জব্দ করা তেলের মধ্যে ডিজেল, পেট্রল এবং অকটেন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সঠিক পরিমাপ না করা গেলেও ড্রামগুলোর ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেলের পরিমাণ আনুমানিক ৭০০ লিটার বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই তেল মণিরামপুর বাজারের একটি ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে, যা অবৈধ কার্যকলাপ রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও পটভূমি
বাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন যে তবিবর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে লুকিয়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা লিটার দরে পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করছিলেন। ধানের আড়তদার গোবিন্দ দাসের সাথে তার সখ্যের সুবাদে তবিবর গোবিন্দের গুদামকে অবৈধ মজুতের নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। শনিবার সকালে আড়তে ধানের নিচে ড্রাম দেখতে পেয়ে স্থানীয়রাই প্রশাসনকে খবর দেয়, যা এই অভিযানের সূত্রপাত ঘটায়।
এই ঘটনা এলাকায় জ্বালানি তেলের অবৈধ বাণিজ্য ও মজুতদারি সম্পর্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই পদক্ষেপ অবৈধ কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন আরও কঠোর নজরদারি ও অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।



