দেশের সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত
চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় দেশের সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে, যা জ্বালানি খাতের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বিস্তারিত
শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) এক বার্তায় মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, যারা জ্বালানি নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সরবরাহ, মজুত, এবং বিতরণ প্রক্রিয়া সরাসরি তদারকি করা সম্ভব হবে, যা অবৈধ কার্যক্রম রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া ও দায়িত্ব
নিয়োগ প্রক্রিয়া ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন হবে:
- ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সরাসরি ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবে।
- অন্যান্য জেলা ও বিভাগীয় শহর: সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা তাদের অধিক্ষেত্রাধীন প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করবেন।
- উপজেলা পর্যায়: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) একইভাবে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের দায়িত্ব পালন করবেন।
ট্যাগ অফিসারদের মূল দায়িত্ব হবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বা বিপিসি নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করা এবং দৈনিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া। তারা পেট্রোল পাম্পের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, কালোবাজারি, বা অন্যান্য অনিয়ম রোধে ভূমিকা রাখবেন।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগপূর্বক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে তথ্য পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে অনুরোধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেস তৈরি হবে, যা জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, "এই সিদ্ধান্ত জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক হবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রস্তুত করবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ট্যাগ অফিসাররা স্থানীয় পর্যায়ে সরাসরি তদারকি করবে, যা দ্রুত সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে ভূমিকা রাখবে।
এই পদক্ষেপের ফলে জ্বালানি খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাবে এবং ভোক্তাদের জন্য ন্যায্য মূল্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। আগামী দিনগুলোতে এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ও প্রভাব নিয়ে নজর রাখা হবে।



