নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৮০০ লিটার পেট্রোল জব্দ
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রামপুর বাজারে একটি বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৮০০ লিটার অবৈধ পেট্রোল জব্দ করেছে। একই সঙ্গে এসব তেল লাইসেন্স ছাড়াই অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা বিক্রির দায়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানটি পরিচালনা করেছেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিফাতুল ইসলাম।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় রামপুর বাজারে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ব্যবসায়ী এনায়েতুর রহমানের গুদাম ঘরে ড্রামে মজুতকৃত ৮০০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, চলমান জ্বালানি তেল সংকটের সুযোগ নিয়ে তিনি অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদ করে লাইসেন্স ব্যতীত অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনার সত্যতা যাচাই করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়।
জব্দকৃত পেট্রোল শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টায় রামপুর বাজারে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ও পরিমাণ অনুযায়ী প্রকাশ্যে বিক্রির জন্য কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনায়েতুর রহমান রামপুর বাজারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী হিসেবে পরিচিত।
আইনগত পদক্ষেপ ও জরিমানা
ভ্রাম্যমাণ আদালত পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ এবং ভোক্তা অধিকার আইন, ২০০৯ এর অধীনে ব্যবসায়ী এনায়েতুর রহমানকে জরিমানা করে। পেট্রোলিয়াম আইন লঙ্ঘনের জন্য ১০ হাজার টাকা এবং ভোক্তা অধিকার আইন ভঙ্গের জন্য ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ধার্য করা হয়, যা মোট ৪০ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। এই সিদ্ধান্ত অবৈধ জ্বালানি বাণিজ্য রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে।
প্রশাসনের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাতুল ইসলাম জানান, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যাতে কেউ অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে, সেজন্য এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে যাতে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়।”
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানও একই সুরে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “জ্বালানি তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দমন করতে জেলার সব এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রয়েছে। এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।” তার মতে, এই পদক্ষেপগুলি সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এই ঘটনা জ্বালানি খাতে অসাধুতা রোধে সরকারি তৎপরতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।



