যশোরে তেল সংকটের পেছনে অসচেতনতা ও অতিরিক্ত মজুতের অভিযোগ
যশোর শহরে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে, যার মূল কারণ হিসেবে নাগরিকদের অসচেতনতা এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি মজুতকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আতঙ্কিত যানবাহন চালকরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পাম্প মালিকরা দাবি করছেন যে, চাহিদা অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর তদন্ত ও পাম্প পরিদর্শন
এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে যশোর শহরে মনিহারস্থ মনির উদ্দিন ও যাত্রিক ফিলিং স্টেশন নামে দুটি তেল পাম্প পরিদর্শন করেন। তিনি পাম্পগুলোর স্টোরেজ যাচাই করেন এবং ক্রয়-বিক্রয়ের নথিপত্র পরীক্ষা করেন। কিছু অসংগতি পাওয়ায় তিনি পাম্প কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন।
পাম্পের সামনে যানবাহন চালকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অস্থির হওয়ার কোনও কারণ নেই। দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।’ তিনি তেল নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক না ছড়াতে সবার প্রতি আহ্বান জানান এবং বাড়তি তেল মজুত না করতে চালকদের অনুরোধ করেন।
যশোরে তেলের বর্তমান অবস্থা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
যশোরের পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন যে, ডিজেলের সরবরাহ মোটামুটি থাকলেও পেট্রল ও অকটেনের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। শহরের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়েছে। যে কয়েকটি পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তেলের খোঁজে অনেক চালককে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, কিন্তু দীর্ঘ পথ ঘুরেও চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।
সচেতন ভুক্তভোগীরা এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে নাগরিকদের অসচেতনতা ও আতঙ্ককেই দায়ী করছেন। যাত্রিক ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক ইকরাম হোসেন বলেন, ‘চাহিদামতো তেল না পাওয়ার পাশাপাশি অনেক চালক দিনে তিন-চার বার করে তেল নিয়ে যাচ্ছেন। অপ্রয়োজনে এই বাড়তি সংগ্রহের কারণেই সাধারণ মানুষ তেল পাচ্ছেন না, ফলে অনেকের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের নজরদারি এবং নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যায়।



