অবৈধ তেল কারবার রোধে জেলায় জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে দেশে জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হওয়ায়, এই সুযোগে কেউ যাতে অবৈধভাবে তেলের কারবার করতে না পারে সেজন্য প্রতিটি জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযানে ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযানে আনুমানিক ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। এদিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কমিশনার ঘাট এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম সুব্রত হালদার। অভিযানে ৩০টি ড্রামে অবৈধভাবে মজুদ করা ডিজেল উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-বিপিসি এবং পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযানে অংশ নেন। তবে অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। উদ্ধার করা তেল পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
অসাধু চক্রের কার্যক্রম ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থান
প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রশাসন জানতে পেরেছে, সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল পরিবহণের সময় একটি অসাধু চক্র অবৈধভাবে তেল অপসারণ করে বিভিন্ন স্থানীয় বিক্রেতার কাছে সরবরাহ করে থাকে। জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুদ ঠেকাতে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে তেল ডিপো, পেট্রোল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট তেল কারবারিদের প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেছে মন্ত্রণালয়।
ভিজিলেন্স টিমের গঠন ও দায়িত্ব
বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলার জন্য পৃথক ভিজিলেন্স টিম ও যোগাযোগ নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে। অধিকাংশ জেলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এসব টিমের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। কয়েকটি জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল এ) দায়িত্ব পালন করছেন।
এই উদ্যোগের ফলে জেলা পর্যায়ে অবৈধ তেল মজুদ, সরবরাহ ও পরিবহণ নিয়ে অভিযোগ দ্রুত নেওয়া এবং তাৎক্ষণিক অভিযান সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।



