বিমান জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে এভিয়েশন খাতের তীব্র প্রতিবাদ
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। সংগঠনটি এই মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক ও দেশের বিমান চলাচল খাতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হিসেবে অভিহিত করেছে।
দাম বৃদ্ধির ঘোষণা ও নতুন মূল্য নির্ধারণ
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিইআরসি জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের ভেতরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২ টাকা ২৯ পয়সায়। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ধার্য করা হয়েছে এক দশমিক ৩২১৬ ডলারে।
এওএবির প্রতিবাদ ও যুক্তি
দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পরপরই আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এর প্রতিবাদ জানায় এওএবি। সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান বলেন, “দেশে জ্বালানি তেলের কোনও ঘাটতি নেই বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং এসব তেল পূর্বনির্ধারিত মূল্যে ক্রয় করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সাম্প্রতিক সময়ে তেলের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাকে ভিত্তি করে এত বড় পরিসরে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক। ভারত ও নেপাল জেট ফুয়েলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে, পাকিস্তান ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপ ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ বৃদ্ধির হার প্রায় ৮০ শতাংশ, যা উদ্বেগজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দাম বৃদ্ধির সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব
এওএবি মনে করে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইন্সগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে এবং অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ভার চাপবে। জেট ফুয়েলের ওপর কর বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের বিমান চলাচল শিল্পের টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে। এমনকি, মূল্য বৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে।
পুনর্বিবেচনার দাবি
মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়ে এওএবি বলছে, একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হোক, যাতে দেশের এভিয়েশন খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়। সংগঠনটি জোর দিয়ে বলে, “এটি কেবলমাত্র বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নয়, বরং সমগ্র অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত, যা সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা উচিত।”



