বগুড়ায় জ্বালানি তেলের সংকট: ফিলিং স্টেশন বন্ধ, যানবাহন ও কৃষকরা বিপাকে
বগুড়ায় তেল সংকটে ফিলিং স্টেশন বন্ধ, যানবাহন ও কৃষকরা বিপাকে

বগুড়ায় জ্বালানি তেলের সংকট: ফিলিং স্টেশন বন্ধ, যানবাহন ও কৃষকরা বিপাকে

জ্বালানি তেলের সরবরাহ না থাকায় বগুড়ার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন শাকপালা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এই সংকটের চিত্র দেখা গেছে। বগুড়ার ৭৮টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সিংহভাগই তেল শূন্য হয়ে বন্ধ রয়েছে, যার ফলে পেট্রল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় মোটরসাইকেল, ট্রাক, বাস, কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা বিপাকে পড়েছেন।

ডিজেল সংকটে বোরো খেতের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত

এদিকে ডিজেল সংকটের কারণে বোরো খেতের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, পাম্পে পাম্পে ধরনা দিয়ে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কে মিতালী ফিলিং স্টেশন এবং দত্তবাড়ি এলাকায় শতাব্দী ফিলিং স্টেশন বন্ধ। শহরের চারমাথা থেকে মোকামতলা পর্যন্ত ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত ৩০টি ফিলিং স্টেশন আছে, যার প্রায় সবই বন্ধ। সেখানে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল নেই।

বেলা ১১টার দিকে টিএমএসএস ফিলিং স্টেশন খোলা পাওয়া গেছে, সেখানে তেলের জন্য কয়েক শ যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়। মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার এবং ভারী যানবাহনে ২০ লিটারের বেশি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। মাটিডালি এলাকার নর্দান ফিলিং স্টেশনের মালিক ও বগুড়া জেলা পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এমদাদ আহমেদ বলেন, মজুত শেষ হওয়ায় তাঁর পাম্প গতকাল সোমবার রাত থেকে বন্ধ। আজ রাতে বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে তেল সরবরাহের কথা রয়েছে, এবং পাম্পে পৌঁছার পর আগামীকাল বুধবার সকাল থেকে তেল বিক্রি শুরু হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক সংকট

রংপুরের পেট্রলপাম্পের মালিক রেজাউল হক, যিনি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রংপুর জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য, তিনি জানান, তাঁর মালিকানাধীন পাঁচটি পেট্রলপাম্প তেলের সংকটে বর্তমানে বন্ধ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত অর্ধশত পেট্রলপাম্পের সব কটিই বন্ধ দেখেছেন, শুধু বগুড়ার টিএমএসএস ফিলিং স্টেশন খোলা ছিল।

ধুনট উপজেলার দুটি পেট্রলপাম্প কয়েক দিন ধরে তেলশূন্য থাকায় ডিজেল সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা, এবং বোরো খেতে সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। পাম্পে পাম্পে ধরনা দিয়েও তেল কিনতে পারছেন না সেচপাম্পের মালিক এবং যানবাহনের চালকেরা। মেসার্স ধুনট ফিলিং স্টেশনের মালিক জুয়েল রানা বলেন, ঈদের দিন থেকে পাম্পে তেলের মজুত শেষ হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও তেল পাচ্ছেন না।

অন্যান্য উপজেলায়ও সংকট ছড়িয়েছে

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম, কাহালু, দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি উপজেলার পাম্পগুলোতেও পেট্রল, ডিজেল ও অকটেন মিলছে না। এতে সেচপাম্প বন্ধ হওয়ায় বোরো খেত নিয়ে দিশাহারা কৃষকেরা, এবং ভোগান্তির মুখে পড়েছেন যানবাহনের চালকেরা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমানের তথ্যানুযায়ী, বগুড়ায় ৭৮টি পেট্রলপাম্পের মধ্যে সরবরাহ ঘাটতির কারণে প্রায় অর্ধেক পাম্পই বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি থেকে পাম্প পর্যন্ত তেল পরিবহনে ট্যাংকলরির ভাড়া ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা, কিন্তু বাঘাবাড়িতে বিপিসির ডিপো থেকে পাম্পমালিকদের সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে পাঁচ হাজার লিটার জ্বালানি তেল। ধারণক্ষমতার অর্ধেক তেল বরাদ্দ পাওয়ায় পরিবহন খরচ প্রায় দ্বিগুণ গুণতে হচ্ছে, কিন্তু পাম্প থেকে বাড়তি দামে তেল বিক্রি করার সুযোগ নেই।