মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জেট ফুয়েলের দাম দ্বিতীয়বার বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম এক মাসে দ্বিতীয়বার বাড়ানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলটরি কমিশন (বিইআরসি) জেট ফুয়েলের নতুন দর ঘোষণা করেছে। গত বছরের মে মাস থেকে বিইআরসি প্রতি মাসে একবার দাম সমন্বয় করলেও, এই প্রথম এক মাসে দুই দফায় দাম সমন্বয় করা হলো।
দ্বিতীয়বার দাম সমন্বয়ের কারণ
বিইআরসি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানির দামে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতিই দ্বিতীয়বার দর সমন্বয়ের মূল কারণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে আক্রমণের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এরপর ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলা শুরু করলে তেলসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলের প্রায় পুরোটাজুড়ে যুদ্ধ বিস্তৃত হয়। দুই পক্ষের হামলায় জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি আটকে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
নতুন দরের বিস্তারিত
এ পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম এ মাসে দ্বিতীয়বার বাড়িয়ে বিইআরসি নতুন দর ঘোষণা করেছে, যা আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। দেশের ভেতরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য জেট ফুয়েলের লিটার প্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা। এর আগে দাম ছিল ১১২ টাকা ৪১ পয়সা, অর্থাৎ প্রতি লিটারের দাম বেড়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা। গত মাসে এ দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা, এবং গত ৮ মার্চ প্রতি লিটারে বেড়েছিল ১৭ টাকা ২৯ পয়সা। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিইআরসির এখতিয়ার ও দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া
পূর্বে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল, জেট এ–১–এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনের পর গত বছরের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি, এবং এর পর থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ভোক্তা ও স্টেকহোল্ডারদের মতামত বিবেচনা করে দাম নির্ধারণ করা হয়, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ইতিমধ্যে ইতিহাসের ভয়াবহ জ্বালানি–সংকটের মুখে বিশ্বের অবস্থান সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছে। বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি এই বৈশ্বিক সংকটের প্রতিফলন, এবং ভবিষ্যতে জ্বালানি বাজারে আরও ওঠানামা দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। বিইআরসি নিয়মিত দাম সমন্বয় করে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে, তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জ্বালানি খাতে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।



