ফিলিপাইনে জ্বালানি সংকট: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিমান চলাচল হুমকির মুখে
বিশ্বজুড়ে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে জ্বালানির সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ-এশীয় দেশ ফিলিপাইনে, যেখানে জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানিতে সংকট দেখা দিয়েছে। বিমানে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দেশটি এখন দেশজুড়ে বিমান পরিষেবা বন্ধ রাখার ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা করছে।
প্রেসিডেন্ট মার্কোসের সতর্কবার্তা
সোমবার (২৩ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জেআর এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দিনকে দিন জ্বালানি দুর্লভ হয়ে উঠছে। আগে যেসব দেশের কাছ থেকে ফিলিপাইন জেট ফুয়েল কিনত, তারা এখন আর বিক্রি করতে আগ্রহী নয়। ফলে দেশটির বিমান সংস্থাগুলোকে আভ্যন্তরীণ মজুতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা দ্রুতই শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট মার্কোস বলেন, ‘এই মজুত বেশিদিন স্থায়ী হবে না। যদি যুদ্ধ শিগগিরই না থামে এবং বিক্রেতা দেশগুলো থেকে আসা সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে হয়তো অল্পদিনের মধ্যেই আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দূরপাল্লার ফ্লাইট পরিষেবা আমরা বাতিল করতে বাধ্য হবো।’ তার এই মন্তব্য ফিলিপাইনের পরিবহন খাতের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
আশাবাদ ও সম্ভাব্য পরিণতি
যদিও প্রেসিডেন্ট মার্কোস আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন যে, ‘আমরা আশা করছি, এমন হবে না। কিন্তু যদি সত্যিই এমন পরিস্থিতি দেখা দেয়, তাহলে আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।’ তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ফিলিপাইন সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিমান চলাচল বন্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
এই সংকট শুধু ফিলিপাইনেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও প্রভাব ফেলতে পারে। জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পরিবহন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা আরও তুলে ধরছে।



