বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দামে অভূতপূর্ব বৃদ্ধি: বিইআরসির জরুরি সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জেট ফুয়েলের দামে এক ধাক্কায় প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে একটি জরুরি সভার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা দেশের বিমান চলাচল খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
দাম বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য
অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম পূর্ববর্তী ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বেড়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হিসাবে, লিটারপ্রতি দাম ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা বা ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়াও, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বেড়ে ১.৩২১৬ ডলার করা হয়েছে। এই দর বৃদ্ধির হার প্রায় ৭৯ শতাংশ, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের প্রবণতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিইআরসির জরুরি সভা ও অংশগ্রহণকারী
জানা গেছে, তেলের দাম বাড়ানোর জন্য বিইআরসি আজ মঙ্গলবার একটি জুম ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জরুরি সভা আহ্বান করে। এই সভায় পদ্মা অয়েল, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সহ বিইআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই সিদ্ধান্তটি দেশের জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, এই দাম বৃদ্ধি বিমান ভাড়া এবং পণ্য পরিবহন খরচে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে, যা ভোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দাম বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব
- বিমান ভাড়া এবং পর্যটন খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে।
- পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যয় বাড়বে।
- জ্বালানি সাবসিডি নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
- বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওঠানামার সাথে বাংলাদেশের সমন্বয় ঘটবে।
বিইআরসির এই সিদ্ধান্তটি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার দিকে নজর রেখে নেওয়া হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। তবে, এই দাম বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মূল্যায়নের জন্য আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন হতে পারে।



