মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি: বিইআরসির জেট ফুয়েল দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জেট ফুয়েলের দাম একলাফে প্রায় ৭৩ শতাংশ বাড়ানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বুধবার (১৮ মার্চ) এক জরুরি বৈঠকে এই দাম নির্ধারণ করা হলেও আপাতত এর কার্যকারিতা স্থগিত রাখা হয়েছে, যা যাত্রী ও প্রবাসীদের জন্য স্বস্তির খবর বয়ে এনেছে।
প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ও মূল্য পরিবর্তনের বিস্তারিত
বিইআরসির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে যাতায়াতকারী ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৯৪ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ প্রতি লিটারে দাম বাড়ার কথা ছিল ৮১ টাকা ৭৭ পয়সা, যা একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ব্যবহৃত জ্বালানির দামও প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ২৬৮৯ ডলার করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন মূল্য বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তী সময়ে সংস্থাটি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। বিইআরসির সদস্য মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত এখনই কার্যকর হচ্ছে না। আগামী ২৫ মার্চ কমিশনের আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই সভা থেকেই চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
স্থগিতাদেশ ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা
সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (ট্যারিফ-২) রাজু আহমেদ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, ১৮ মার্চ সমন্বয়কৃত জেট ফুয়েলের এই বর্ধিত মূল্যহারের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত করেছে কমিশন। এই সিদ্ধান্তটি জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং সাধারণ মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে জেট ফুয়েলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিমানভাড়ার ওপর। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রুট এবং মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটের টিকিটের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিইআরসির স্থগিতাদেশ একটি সাময়িক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে, কিন্তু ভবিষ্যতে দাম বৃদ্ধি অনিবার্য হলে তা দেশের পরিবহন খাত ও অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।
