ঈদের আগে তেল সংকটে ডেমরায় পেট্রল পাম্প বন্ধ, চরম ভোগান্তি
ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে রাজধানীর ডেমরায় তেল সংকটের কারণে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ২০২৬) দিনভর বেশ কয়েকটি পেট্রল পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। অকটেন ও পেট্রল পর্যাপ্ত না পাওয়ায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
রেশনিং তুলে নেওয়ার পরও স্বাভাবিকতা ফেরেনি
সরকারি ঘোষণায় রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ডেমরার অধিকাংশ পেট্রল পাম্পে স্বাভাবিকতা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পাম্পগুলো এখনো অক্ষম। তবে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি তেল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে। গত রোববার রাত থেকে মোটরসাইকেলে অকটেনের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সিরিয়ালের কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
ডিপো থেকে তেল সরবরাহে ঘাটতি
মঙ্গলবার দিনব্যাপী ডেমরা-রামপুরা ও ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কে তেলবাহী বড় ট্রাক চলাচল করলেও সংশ্লিষ্ট ডিপোগুলো ডেমরার পাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ করেনি। কিছু পাম্পে ডিজেল দেওয়া হলেও পেট্রল বা অকটেন অর্ধেক পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে। এতে তেল গ্রহীতারা বাধ্য হয়ে অন্য পাম্পে যাচ্ছেন, যার ফলে প্রধান সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
পাম্প মালিকদের অভিযোগ
পাম্প মালিকরা অভিযোগ করেছেন যে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও বোনাস দিতে হবে, কিন্তু তেল সংকটের কারণে তারা লোকসানের মুখোমুখি। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে তেল সরবরাহের সমস্যা দ্রুত সমাধান হলে লোকসান পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। প্রকৃতপক্ষে, রেশনিং এখনো চলমান রয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
বিভিন্ন এলাকার অবস্থা
সরেজমিন দেখা গেছে, ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় সিটি পেট্রল পাম্প কিছু সময় খোলা থাকলেও বেশিরভাগ সময় বন্ধ ছিল। একইভাবে, স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার রাসেল ফিলিং স্টেশন, মিরপাড়া সিকদার ফিলিং স্টেশন ও মুন পেট্রল পাম্পে বিক্রি বাড়লেও দিনভর পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে খিলগাঁও থানাধীন নাকদার পাড় এলাকার কিকো ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। মিরপাড়া সিকদার ফিলিং স্টেশনে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর পাম্প চালু করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রাহক ও পাম্প পরিচালকের বক্তব্য
রূপগঞ্জের নোয়াপাড়া থেকে সিকদার ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা গ্রাহক মো. মাসুম খন্দকার বলেন, "আমি আশা করে রূপগঞ্জ থেকে ডেমরা তেল নিতে এসে দেখি পাম্প বন্ধ। এতে করে তেল নিতে আমার মোটরসাইকেলে যে তেল পুড়েছে, সেটা আরও বড় ক্ষতি হয়ে গেল।"
সিকদার ফিলিং স্টেশনের পরিচালক মো. রনি মুন্সি জানান, "সোমবার রাতে পরিমাণ মতো তেল না পাওয়ায় মঙ্গলবার দিনের বেলায় পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। তেল বিক্রি করতে না পারায় আমাদের মোটা অংকের লোকসান হবে। সামনে ঈদ অথচ তেল সংকটে টার্গেট বিক্রি করা তো দূরের কথা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস দেওয়াই মুশকিল হয়ে যাবে।"
পুলিশের বক্তব্য
ডেমরা থানার ওসি তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, "ধীরে ধীরে পেট্রল পাম্পগুলোতে স্বাভাবিকতা ফিরে আসছে। আগের তুলনায় এখন বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কম। তবে এখনো তাদের তেল সংকট রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।"
