ঢাকার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের সংকট: দীর্ঘ লাইন ও রেশনিং অব্যাহত
ঢাকার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সংকট, দীর্ঘ লাইন

ঢাকার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের সংকট: দীর্ঘ লাইন ও রেশনিং অব্যাহত

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের সংকট চলছে। সরকার গত রোববার থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং প্রথা তুলে দিলেও, অনেক পাম্পে এখনও চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও আগের নিয়মে রেশনিং করে তেল বিক্রি হচ্ছে, আবার কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আসাদ গেট, বিজয় সরণি, পরীবাগ, মতিঝিল, রাজারবাগ ও মগবাজারে ১০টি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। রাজারবাগ পাম্পে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারে ৫০০ টাকার বেশি অকটেন দেওয়া হচ্ছে না। পাম্পের কর্মচারী মো. ইমন জানান, ডিপো থেকে এই বিধিনিষেধ দেওয়া আছে এবং তাদের কিছু করার নেই।

মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স পাম্পে ২০ থেকে ২৫ মিনিট অপেক্ষা করে গ্রাহকরা চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন। তবে দৈনিক বাংলা মোড়ের নাভানা পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পাম্পের কর্মচারী খোকন শেখ বলেন, সকাল থেকে গাড়ির চাপ বেশি ছিল, তাই দুপুর নাগাদ তেল শেষ হয়ে গেছে।

দীর্ঘ লাইন ও গ্রাহকদের অভিযোগ

সকাল ১০টায় আসাদ গেটের সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের সারি প্রায় এক কিলোমিটারের বেশি ছাড়িয়ে গেছে। মো. জসিম নামের এক প্রাইভেট কার চালক প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, অন্য দিন আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতো, আজ তুলনামূলক কম সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

আসাদ গেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকে তেল দেওয়া হলেও সকাল ১০টার কিছু আগে হঠাৎ তেল দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এই পাম্পে তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের লাইন প্রায় দেড় কিলোমিটার লম্বা হতে দেখা গেছে। ক্যাশিয়ার মো. আজম জানান, তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা আপাতত তেল দেওয়া বন্ধ রেখেছেন।

বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের সামনেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। রাইড শেয়ারিংয়ের কাজ করেন রাসেল আহমেদ, তিনি প্রায় ৫০ মিনিট অপেক্ষা করেছেন। তিনি জানান, এবারের ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি পাবনায় মোটরসাইকেল চালিয়ে যাবেন, তাই ট্যাংক ভর্তি করে নিতে এত সময় ধরে অপেক্ষা করে আছেন।

গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া

রাজারবাগ পাম্পে প্রায় ২০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার তেল নেন মামুন হোসেন। তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে যাবেন কুষ্টিয়ায়। তিনি বলেন, ‘২০০ টাকার তেল তো রিজার্ভেই থেকে যাবে। সরকার বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার পরও তেল নিয়ে ঝামেলা করার কোনো অর্থ নেই। এত কম তেল নিয়ে বেশি দূর যাওয়া যাবে না। অন্য কোনো পাম্প থেকে আবার নেওয়ার চেষ্টা করব।’

তালুকদার ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য গাড়ি নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন শিহাব আহমেদ সুজন। তিনি বলেন, সকাল ১০টার কিছু আগে হঠাৎ তেল দেওয়া বন্ধ করে দেয়। পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে তেল শেষ হয়ে গেছে। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজকে ছুটির দিন। তবু তেলের জন্য এত লম্বা লাইন। কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে বুঝতে পারছি না।’

পরীবাগের মেঘনা মডেল পাম্পে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে তেল পাচ্ছেন গ্রাহক। মেঘনা পাম্পের পার্শ্ববর্তী পূর্বাচল ট্রেডার্স পাম্পেও কিছু সময় অপেক্ষা করে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন গ্রাহকরা।

এই পরিস্থিতিতে ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।