জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির উদ্যোগ
জ্বালানি তেলের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ভারত থেকে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিদ্যমান চুক্তি ও আমদানি পরিস্থিতি
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ভারতীয় প্রতিষ্ঠান নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি করে থাকে। বর্তমানে মাসে প্রায় পাঁচ হাজার টন ডিজেল কেনা হচ্ছে, কিন্তু চলমান পরিস্থিতিতে এনআরএল থেকে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আনার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ভারত থেকে পাইপলাইনে ডিজেল আমদানির জন্য বিপিসি ও এনআরএলের মধ্যে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর ১৫ বছর মেয়াদী একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় ভারতের শিলিগুড়ি ডিপো থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত স্থাপিত পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ এক লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করার কথা থাকলেও বর্তমানে মাসে মাত্র পাঁচ হাজার টন করে ডিজেল কেনা হচ্ছে, যা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও ঐতিহাসিক সরবরাহ
ইতোমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য মতে, ২০২৩ সালে ভারত বাংলাদেশকে ৩৫ হাজার ৭১৮ টন, ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২০৪ টন এবং ২০২৫ সালে এক লাখ ২৪ হাজার ২১৬ টন ডিজেল সরবরাহ করেছে। এছাড়া ভারত থেকে বিভিন্ন সময়ে জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল ও অকটেনও আমদানি করা হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার একটি দৃষ্টান্ত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিসির এক কর্মকর্তা বলেন, “তেলের সংকট যাতে না হয় সেজন্য আমরা ভারত ছাড়াও আরও কয়েকটি উৎস থেকে আমদানির পরিকল্পনা করছি। আপাতত কোনও মজুদ ঘাটতি নেই। ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এসব পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সুতরাং, এতে আতঙ্কিত হবারও কিছু নেই।”
সরকারি পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে ডিজেলে আমদানির বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতেই জরুরি ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে তা দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এই পদক্ষেপটি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



