ইসরায়েলের হামলায় তেহরানের জ্বালানি ডিপো, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নয় মূল অবকাঠামো
ইসরায়েলের হামলায় তেহরানের জ্বালানি ডিপো, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নয়

ইসরায়েলের হামলায় তেহরানের জ্বালানি ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নয় মূল অবকাঠামো

ইরানের রাজধানী তেহরান এবং এর আশপাশের এলাকায় অবস্থিত স্থানীয় জ্বালানি ডিপোগুলোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার (৭ মার্চ) সংঘটিত এই হামলার পর তেহরানের তেল সংরক্ষণাগারগুলোতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে ইরানের মূল জ্বালানি শিল্প বা তেল-গ্যাস রপ্তানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আঘাত করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: মূল জ্বালানি শিল্প লক্ষ্য নয়

রোববার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এই হামলাগুলোকে স্থানীয় জ্বালানি ডিপোর ওপর চালানো ‘ইসরায়েলি হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ডিপোগুলো মূলত দৈনন্দিন ব্যবহারের জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, এবং ওয়াশিংটন বর্তমানে ইরানের কোনো মূল জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে না। রাইট বলেন, “আমাদের লক্ষ্যবস্তুতে কোনো জ্বালানি অবকাঠামো নেই। ইরানের তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই।”

বিশ্লেষকদের মতামত: বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্ক অবস্থান বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানোর কৌশল হিসেবে কাজ করছে। ইরানের মূল জ্বালানি শিল্পে সরাসরি হামলা চালানো হলে তা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই, যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় ডিপোগুলোতে সীমিত হামলার মাধ্যমে তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছে, কিন্তু বৃহত্তর অবকাঠামোকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামলার প্রভাব ও পরবর্তী সম্ভাবনা

এই হামলার ফলে তেহরানের জ্বালানি ডিপোগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, ইরানের তেল-গ্যাস রপ্তানি অবকাঠামো এখনো অক্ষত রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করছে। ভবিষ্যতে এই সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে তা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।