জ্বালানি মজুদ বাড়লেও রেশনিং অব্যাহত রাখবে সরকার
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ তুকু রবিবার জানিয়েছেন, দুটি জ্বালানি বোঝাই জাহাজ দেশে পৌঁছানোর পর জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চলমান আন্তর্জাতিক যুদ্ধের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে সরকার জ্বালানি সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্ত্রীর বক্তব্য জোটক্লাবে
মন্ত্রী তুকু জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখার সময় এ তথ্য জানান। উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম। এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ২০তম কারাবাস দিবস স্মরণে, যিনি ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ এই নয় যে এখন থেকে তা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ব্যবহার করা যাবে। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, “যুদ্ধ চলমান থাকা পর্যন্ত আমরা রেশনিং ব্যবস্থা চালিয়ে যাব।”
রেশনিংয়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা
জ্বালানি রেশনিংয়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তুকু বলেন, যুদ্ধের মেয়াদ কতদিন চলবে তা অনিশ্চিত থাকায় সরকার বিদ্যমান মজুদ সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে চায়। তিনি বিশদভাবে বলেন, “আমরা জানি না কখন যুদ্ধ শেষ হবে। সেজন্যই আমরা জনগণকে জ্বালানি সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছি এবং রেশনিং চালু করেছি, যাতে মজুদ দীর্ঘস্থায়ী হয়। যদি আমরা একবারে সবকিছু ব্যবহার করি, তাহলে মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু যদি আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার ব্যবস্থাপনা করি, তাহলে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারব।”
বিদ্যুতের দাম বাড়বে না
মন্ত্রী তুকু আরও জানান, যুদ্ধের কারণে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়াতে পারে এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি জনগণকে নিশ্চিত করতে চাই যে, আমরা এখনই বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছি না।”
তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে জ্বালানি মজুদ করার ব্যাপারে সতর্ক করেন। মন্ত্রী বলেন, “জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই, কিন্তু রেশনিং অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে। আমরা জানি না কখন যুদ্ধ শেষ হবে, এবং জনগণকে এটা বুঝতে হবে।”
জ্বালানি পাচার রোধে সতর্কতা
মন্ত্রী বিএনপির নেতা-কর্মী এবং সাধারণ জনগণকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যাতে জ্বালানি পাচার বা কালোবাজারে বিক্রি না হয়। তিনি পূর্ববর্তী সরকারের সময়ের বিদ্যুৎ খাতের অবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার একটি দুর্বল ও ঋণবহুল ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, যার বকেয়া দায় ছিল প্রায় ৭৬,০০০ কোটি টাকা।
তুকু বলেন, “চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, আমরা এ পর্যন্ত ব্যবস্থাটি স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছি, এবং আমরা আশা করি ভবিষ্যতেও তা স্থিতিশীল থাকবে।”
রমজানে বিদ্যুৎ সরবরাহ
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, গত ২০ দিন ধরে রমজান মাসে ইফতার, তারাবিহ ও সাহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনা সহায়ক হয়েছে। এই ব্যবস্থাপনা রমজানের ধর্মীয় কার্যক্রমে জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সর্বোপরি, মন্ত্রী তুকুর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও বৈশ্বিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশ সতর্কতা ও রেশনিংয়ের নীতি বজায় রাখবে, যাতে দেশ দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।



