জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত: ঢাকার ফিলিং স্টেশনে অভিযান জোরদার
জ্বালানি সংকটে ভ্রাম্যমাণ আদালত: ঢাকায় অভিযান

জ্বালানি তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রেক্ষিতে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা প্রতিহত করতে সরকার সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে তেল মজুত করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সরকার ইতিমধ্যে যানবাহনভিত্তিক জ্বালানি তেলের বিক্রির পরিমাণ নির্ধারণ করলেও দেশের বিভিন্ন পেট্রলপাম্প ও ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় মজুত বৃদ্ধি, খোলা বাজারে তেল বিক্রি এবং পাচারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ঢাকার ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

রোববার পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আজ ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়েছে। তেজগাঁওয়ের সিটি ফিলিং স্টেশনে গেলে তেল পাওয়া যায়নি, গতকাল থেকেই তেলের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। একই এলাকার ক্লিন ফুয়েল সবকিছু নিয়ম মেনে চালু আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরএস এন্টারপ্রাইজে গতকাল রাত থেকে তেল নেই, এবং রয়েল ফিলিং স্টেশনেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। মহাখালীর তশোফা ফিলিং স্টেশনেও তেলের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, সোহাগ ফিলিং স্টেশন সাড়ে ৩ হাজার লিটার অকটেন মজুত করে রেখেছিল, যা তেল পরিমাপ করার পর চালু করা হয়েছে। ইউরেকা ফিলিং স্টেশন সব নিয়ম মেনে তেল সরবরাহ চালু রেখেছে।

জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার

এসব অনিয়ম ঠেকাতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে। এ নির্দেশনার অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

জ্বালানি তেলের জন্য ফিলিং স্টেশনে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের লম্বা লাইন এবং জেনারেটরের ডিজেলের জন্য গ্যালন ও বোতল নিয়ে গ্রাহকদের অপেক্ষার দৃশ্য ঢাকার বিজয় সরণী ও মোহাম্মদপুরে পর্যবেক্ষণ করা গেছে। সরকারের এই পদক্ষেপ জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।