কুমিল্লায় তেল সংকট: ফিলিং স্টেশন থেকে পেট্রোল-অকটেন সরবরাহ প্রায় বন্ধ
কুমিল্লায় তেল সংকট: ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল-অকটেন বন্ধ

কুমিল্লায় তীব্র তেল সংকট: ফিলিং স্টেশন থেকে পেট্রোল-অকটেন সরবরাহ প্রায় বন্ধ

কুমিল্লা শহরের ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে তেল সরবরাহ প্রায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক অসুবিধা সৃষ্টি করছে। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে দিনব্যাপী শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও পেট্রোল বা অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে না। তবে কিছু কিছু স্থানে সীমিত পরিমাণে ডিজেল বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা সামগ্রিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।

সংকটের সূত্রপাত ও প্রভাব

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শহরের চারটি ফিলিং স্টেশন তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে নগরের সড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। ভোক্তারা এই পরিস্থিতিকে কৃত্রিম সংকট বলে অভিযোগ করছেন, এবং তারা দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন।

ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ

কুমিল্লার চকবাজার এলাকার একটি ফিলিং স্টেশন থেকে তেল না পেয়ে ফিরে যাওয়া মিজানুর রহমান নামের একজন ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, "একদিনের মধ্যে কীভাবে সংকট দেখা যায় জানি না। আমরাতো চাকরি করি, মোটরসাইকেলের ওপর পুরোটাই নির্ভরশীল। কিন্তু এভাবে যদি আর একদিন চলে, ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়বো।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, টমছম ব্রিজ এলাকার পাম্পের সামনে মোটরসাইকেল চালক মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে দেখা হলে তিনি বলেন, "যেই তেল আছে তাতে বাসা পর্যন্ত যেতে পারবো। এরপর বাচ্ছাদের স্কুল থেকে আনা ও বাকি কাজ কীভাবে করবো জানি না। শহরে অটোরিকশার কারণে যানজট তাই মোটরসাইকেল নিলাম, আর এখন সেটাও ঘরে বসে থাকবে।" তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে যোগ করেন, "এসব সিন্ডিকেটের কাছে দেশের মানুষ জিম্মি। প্রশাসন অভিযান করলে সব ঠিক হয়ে যাবে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাম্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

কুমিল্লার টমছম ব্রিজ এলাকার যমুনা পেট্রোল পাম্পের তত্ত্বাবধায়ক মুশফিক হাসনাইন বলেন, "ভোক্তারা অতিরিক্ত তেল নেওয়ায় পাম্পের সরবরাহ শেষ হয়েছে। আমাদের কাছে তেল নেই তাই সবাই ফিরে যাচ্ছে। এতে আমাদের কোনও দোষ নেই।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে রবিবার নাগাদ আবারও তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে, তবে তা নিশ্চিত নয়।

সুশীল সমাজের আহ্বান

এদিকে, কুমিল্লার সুশীল সমাজ তেল নিয়ে কেউ সিন্ডিকেট না করতে পারে বা কৃত্রিম সংকট না করতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়।

এই সংকটের ফলে কুমিল্লার দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে, এবং স্থানীয়রা দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা করছেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও তেল সরবরাহ পুনরুদ্ধারই এখন সকলের কাম্য।