মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে তেলের আতঙ্ক: মন্ত্রী বললেন, মজুদ যথেষ্ট, দুটি জাহাজ আসছে
তেলের আতঙ্কে মন্ত্রীর আশ্বাস: মজুদ যথেষ্ট, দুটি জাহাজ আসছে

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে তেলের আতঙ্ক: মন্ত্রী দিলেন আশ্বাস

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে তেল পাম্পে ভিড় করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হয়েছে এবং সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তেলের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দেশে তেলের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে এবং ভবিষ্যতের কোনো সম্ভাব্য সংকট এড়াতে বিকল্প উৎসের কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগামী ৯ মার্চ দেশে আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ পৌঁছাবে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। ফলে, সরবরাহে কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান।

গুজব ও আতঙ্কে না ভুগতে জনগণের প্রতি আহ্বান

মন্ত্রী জনগণের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, গুজব বা আতঙ্কের বশবর্তী হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করা উচিত নয়। তিনি সতর্ক করে দেন, কেউ যদি প্রয়োজনের বেশি তেল কিনে, তাহলে তা অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করতে পারে এবং বাজার ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তেলের সরবরাহে অনিয়ম বা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ এড়াতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সরকারি পদক্ষেপ

জনভোগান্তি কমাতে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে। মন্ত্রী জানান, আগামীকাল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু হবে, যা বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করবে এবং অনিয়ম দমন করবে। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সরকারের এই সক্রিয় ভূমিকা আশা জাগায় যে, তেল সংকট দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি করলেও, বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তুতি ও পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। মন্ত্রীর এই বক্তব্যে জনগণের আতঙ্ক কিছুটা প্রশমিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।