রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সংকটে উত্তাল পরিস্থিতি
রাজশাহী বিভাগজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সাময়িক ঘাটতির কারণে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নগরীর একটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশের উপস্থিতিতে তেল বিক্রির ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রির সীমাবদ্ধতা ও উত্তেজনা
শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার বিমানবন্দরের সামনে অবস্থিত মেসার্স হাবিব ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন জমে গেছে। তেলের মেশিনের ওপর সাদা কাগজে লাল কালি দিয়ে লেখা ছিল—জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকার তেল, মাহিন্দ্রা বা ভটভটিকে ২০০ টাকা, প্রাইভেট কারকে ১ হাজার টাকা এবং পিকআপকে ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হবে।
তবে সেখানে উপস্থিত অনেক চালক অভিযোগ করেন, পাম্পে তেল মজুত থাকার পরেও তখন কোনো যানবাহনকে তেল দেওয়া হচ্ছিল না। এ নিয়ে একপর্যায়ে পাম্প এলাকায় হট্টগোল শুরু হয়। ক্ষুব্ধ চালকরা চিৎকার করে বলেন, ‘যদি তেল দেওয়াই না হয়, তাহলে দড়ি বেঁধে পাম্প বন্ধ করে রাখলেই পারতো। অযথা আমাদের হয়রানি করার দরকার কী?’
পুলিশের হস্তক্ষেপে তেল বিক্রি শুরু
এ সময় কেউ একজন এয়ারপোর্ট থানায় ফোন করলে দ্রুত পুলিশের একটি টহল গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পুলিশ পাম্পের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বললে তেলের মেশিন চালু করা হয় এবং উপস্থিত যানবাহনগুলোকে তেল দেওয়া শুরু হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই পরে সেখানে তেল বিক্রি করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।
রাজশাহী বিভাগজুড়ে তেল সরবরাহের ঘাটতি
এদিকে, রাজশাহী বিভাগজুড়ে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। চালকরা অভিযোগ করছেন, চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়েছে। যেসব স্টেশনে তেল রয়েছে, সেগুলোতে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে, যা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে।
ফিলিং স্টেশন ম্যানেজারের ব্যাখ্যা
মেসার্স আফরীন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সোলাইমান কবির বলেন, ‘ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে তেল পাওয়া নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চাহিদা দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিপোতেও এখন আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি গাড়িতে তেল লোড হচ্ছে। দেশে তেলের কোনো ঘাটতি নেই, কিন্তু হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহীতে তেল পৌঁছাতে যে সময় লাগে, সেই কারণেও ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা যাচ্ছে না।’
সোলাইমান কবির জানান, তাদের পাম্পে স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই বিক্রি বেড়ে ১১ থেকে ১২ হাজার লিটারে পৌঁছেছে। এ কারণে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুক্রবার ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকায় তেল শেষ হয়ে গেছে। তবে আগামীকাল তেল সরবরাহ পেলে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) উম্মে কুলসুম সম্পা বলেন, ‘ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কোনো ফিলিং স্টেশনে মজুত থাকার পরেও তেল বিক্রি না করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এই বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে, যদিও বর্তমান পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক রয়েছে।
