গ্যাস সংকটে দেশের চারটি ইউরিয়া কারখানা ১৫ দিনের জন্য বন্ধ
জাতীয় গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশের চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা ১৫ দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন পাঁচটি কারখানার মধ্যে শুধু শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড বর্তমানে চালু রয়েছে।
যেসব কারখানায় উৎপাদন বন্ধ
বিসিআইসির পরিচালক (উৎপাদন ও গবেষণা) মনিরুজ্জামান শুক্রবার জানিয়েছেন, গ্যাস সংকটের কারণে নিম্নলিখিত চারটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে:
- ঘোড়াশালের পলাশ ফার্টিলাইজার
- চট্টগ্রামের ইউরিয়া ফার্টিলাইজার
- যমুনা ফার্টিলাইজার
- আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি
মনিরুজ্জামান বলেন, "১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। এরপর কী সিদ্ধান্ত হবে, জানি না।"
বেসরকারি কারখানাও বন্ধ
এছাড়াও বেসরকারিভাবে পরিচালিত কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। ফলে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দেশের ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে পাঁচটিতেই বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
গ্যাসের চাহিদা ও উৎপাদন সক্ষমতা
মনিরুজ্জামান আরও জানান, বিসিআইসির পাঁচটি ইউরিয়া কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। বর্তমানে চালু থাকা শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন।
জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশনা
এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশনা জারি করেছে। বৃহস্পতিবার জারি করা নির্দেশনায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:
- প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমানো
- গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার পরিহার
- পাইপলাইনে লিক রোধ
এছাড়া জ্বালানি তেল সাশ্রয়ের জন্য ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিবর্তে গণপরিবহণ ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই গ্যাস সংকটের কারণে দেশের সার উৎপাদন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কৃষি খাতের জন্য ইউরিয়া সার একটি অপরিহার্য উপাদান হওয়ায় এই উৎপাদন বন্ধের প্রভাব কৃষি উৎপাদনেও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
