গ্যাস সংকটে দেশের চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা ১৫ দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ
গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশের চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানায় ১৫ দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন পাঁচটি কারখানার মধ্যে বর্তমানে শুধু শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড চালু আছে।
কারখানাগুলোর অবস্থা
জানা যায়, ঘোড়াশালের পলাশ ফার্টিলাইজার, চট্টগ্রামের ইউরিয়া ফার্টিলাইজার, যমুনা ফার্টিলাইজার এবং আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিসিআইসির পরিচালক (উৎপাদন ও গবেষণা) মনিরুজ্জামান বলেন, ১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। এরপর কী সিদ্ধান্ত হবে, জানি না।
বেসরকারি কারখানার অবস্থা
এর বাইরে বেসরকারিভাবে পরিচালিত কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। ফলে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দেশের ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে পাঁচটিতেই বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ।
গ্যাসের চাহিদা ও উৎপাদন সক্ষমতা
বিসিআইসির পাঁচটি ইউরিয়া কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয় উল্লেখ করে বিসিআইসির পরিচালক বলেন, চালু থাকা শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন।
জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশনা
এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশনা জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমানো
- গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার পরিহার
- পাইপলাইনে লিক রোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া
একইসঙ্গে জ্বালানি তেল সাশ্রয়ের জন্য ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
