গ্যাস সংকটে নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ
গ্যাস সংকটে নরসিংদীর সার কারখানা উৎপাদন বন্ধ

গ্যাস সংকটে নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ

দেশের চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ও পরিবেশবান্ধব সার উৎপাদন কেন্দ্র, নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি কারখানার সার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার (৪ মার্চ) বিকাল থেকে সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল আলম।

উৎপাদন ক্ষমতা ও বর্তমান অবস্থা

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, এই সারকারখানাটি শতভাগ উৎপাদন সক্ষমতায় চালু ছিল এবং দৈনিক ২ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন। উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের কৃষি খাতের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

এই সারকারখানার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে গ্যাসনির্ভর একটি প্রক্রিয়া, যা বর্তমান গ্যাস সংকটের সরাসরি শিকার হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পরও কারখানার গুদামে প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে, যা অল্প সময়ের জন্য চাহিদা মেটাতে সহায়ক হতে পারে।

গ্যাসের চাহিদা ও সম্ভাবনা

কারখানাটিতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালিয়ে যেতে দৈনিক ৭১–৭২ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। তবে বর্তমানে মাত্র ৫২–৫৩ পিএসআই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, যা সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালিয়ে রাখার জন্য অপর্যাপ্ত। কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে আবারও পুরোপুরি উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে।

তবে কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না, যা কারখানার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এদিকে পলাশের তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি অফিসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে দায়িত্বরত ম্যানেজার আল আমীনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, যা গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্য প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করছে।

এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশের সার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা কৃষি উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।