ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট: দ্বিগুণ দামে এলএনজি কিনছে সরকার
ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা সরাসরি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। চুক্তি থাকা সত্ত্বেও কাতারসহ অন্যান্য দেশগুলো থেকে সময়মতো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির সম্ভাব্য বড় সংকট কাটাতে সরকার প্রায় দ্বিগুণ দামে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি কিনতে যাচ্ছে।
অতিরিক্ত খরচ ও ক্রয় প্রক্রিয়া
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, স্পট মার্কেট থেকে কেনা দুই কার্গোতে সরকারের প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। উল্লেখ্য, গত মাসেই একই ধরনের চালান কেনা হয়েছিল এক হাজার ১০০ কোটি টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে সরকারকে।
গত বুধবার ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দ্রুত এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান গানভোর গ্রুপ থেকে একটি এলএনজি কার্গো কেনা হবে। এ এলএনজির প্রতি ইউনিট (এমএমবিটিইউ) কিনতে খরচ হবে ২৮ দশমিক ২৮ ডলার। আর ভিটলের কাছ থেকে আরেকটি এলএনজি কার্গো কেনা হবে। প্রতি ঘনফুট গ্যাসের জন্য ব্যয় হবে ২৩ দশমিক শূন্য আট ডলার। মন্ত্রিসভা থেকে এ দুই প্রতিষ্ঠান থেকে এলএনজি কেনার অনুমোদন পাওয়া গেছে।”
দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহের সময়সীমা
কর্মকর্তা আরও বলেন, “গানভোরের কার্গোর দাম প্রায় এক হাজার ২৭৯ কোটি টাকা হবে, যা চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই ধরনের চালানের জন্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ছিল।” গানভোর থেকে কেনা এলএনজি কার্গো আগামী ১৫ কিংবা ১৬ মার্চ বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ভিটলের চালান ১৮ কিংবা ১৯ মার্চ আসার কথা রয়েছে।
পূর্ববর্তী চেষ্টা ও সরাসরি আলোচনা
এর আগে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এরফানুল হক জানিয়েছিলেন, মার্চে নির্ধারিত চারটি এলএনজি কার্গো ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। তবে, ১৫ ও ১৮ মার্চ আরও দুটি জাহাজ এখনও আটকে আছে। এজন্য স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার জন্য মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে, এতে কোনও দরদাতা অংশ নেয়নি। পরে পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট থেকে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দুই জাহাজ এলএনজি কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত করে।
এই পদক্ষেপটি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের জরুরি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও এটি ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, যা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
