মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলার পর সৌদি আরবে বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি তেল শোধনাগার বন্ধ হয়ে গেছে। একইসাথে কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও সরবরাহ স্থগিত করেছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের পথ হরমুজ প্রণালিও বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে এবং বাংলাদেশেও জ্বালানিসংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গ্যাস সরবরাহ কমানো ও লোডশেডিংয়ের সম্ভাবনা
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। গত বুধবার থেকে এই সরবরাহ ২০ কোটি ঘনফুট কমিয়ে আনা হয়েছে। সার ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ হ্রাস করা হয়েছে, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে কিছুটা লোডশেডিং হতে পারে। এছাড়া, কোথাও কোথাও রান্নার গ্যাস পেতে ভোগান্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারের সাশ্রয়ী নির্দেশনা ও জরুরি সভা
জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ গতকাল শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি সভা করেছেন। সভায় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, "জ্বালানি সরবরাহ ধীর হয়ে গেছে। লোডশেডিং হলেও তা অসহনীয় হবে না। কিছুটা গ্যাস–সংকট হতে পারে। সংকট নিরসনে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইফতার থেকে তারাবিহ পর্যন্ত ও সাহ্রির সময় লোডশেডিং হবে না।
এলএনজি আমদানিতে অনিশ্চয়তা
দেশের গ্যাস চাহিদার ৩৫ শতাংশ পূরণ করে আমদানি করা এলএনজি, যার সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। কাতার থেকে এলএনজি আসে হরমুজ প্রণালি হয়ে, যা এখন বন্ধ। যুদ্ধের মধ্যে কাতার এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এলএনজি সরবরাহ গত মঙ্গলবার ৯৫ কোটি ঘনফুট থেকে গতকাল ৭৫ কোটি ঘনফুটে কমানো হয়েছে, যাতে ঈদের ছুটি পর্যন্ত সরবরাহ ধরে রাখা যায়।
জ্বালানি তেলের মজুত ও ডিজেল সংকট
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র বলছে, পেট্রল ১৬ দিন, অকটেন ৩০ দিনের এবং ফার্নেস তেলের ৭৬ দিনের মজুত আছে। তবে ডিজেলের মজুত আছে মাত্র ১৪ দিনের। বিপিসির সরবরাহ করা জ্বালানি তেলের প্রায় ৭৫ শতাংশ ডিজেল। বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম দুই দিনে প্রায় ৫০ ডলার বেড়েছে, যা সরবরাহকে আরও জটিল করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জ্বালানিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ম তামিম বলেন, "জ্বালানি তেলের চেয়ে গ্যাসের সংকট বেশি। জ্বালানি সাশ্রয় ও বেশি দামে বিকল্প উৎস থেকে কেনা; আপাতত এর কোনো বিকল্প নেই।" তিনি সতর্ক করে দেন যে, দুই সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ না হলে বড় ধরনের জ্বালানিসংকট তৈরি হতে পারে। সরকার ইতিমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে এবং আলোকসজ্জা পরিহার ও গণপরিবহন ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে।
