হরমুজ প্রণালি সংকটে বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহে রেশনিং, বিদ্যুৎ ও সার কারখানা প্রভাবিত
গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানো ও সার কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত

হরমুজ প্রণালি সংকটে বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহে জরুরি রেশনিং

হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তা ও গ্যাস সরবরাহে ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ হ্রাস এবং একটি সার কারখানা সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, আমদানিনির্ভর গ্যাস সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় রেশনিং প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের বক্তব্য

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক সরবরাহ রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “আজ থেকেই সরবরাহ রেশনিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হয়তো একটি সার কারখানা বন্ধ রাখতে হতে পারে।” সম্ভাব্য গ্যাস সংকটের আশঙ্কা থেকেই এই জরুরি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এলএনজি আমদানির অনিশ্চয়তা

চেয়ারম্যান এরফানুল হক ব্যাখ্যা করেন যে, মার্চ মাসের চারটি এলএনজি কার্গো ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে ১৫ ও ১৮ মার্চ নির্ধারিত দুটি কার্গো নিয়ে বর্তমানে গুরুতর অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। তিনি বলেন, “আমরা কাতার গ্যাসকে চিঠি দিয়েছি। তারা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফিরতি চিঠিতে চুক্তির জরুরি অবস্থার শর্ত যুক্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে। এতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।”

গ্যাস সরবরাহ কমানোর পরিমাণ

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ দৈনিক ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে আগামী সাত দিনে মোট এক হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। বর্তমানে সার উৎপাদনে দৈনিক ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হবে। একইসাথে, বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ ৮৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমিয়ে ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামানো হবে।

এলএনজি কার্গোর বর্তমান অবস্থা

১১ মার্চের মধ্যে যেসব এলএনজি কার্গো বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি সফলভাবে অতিক্রম করেছে। ৩, ৫, ৯ ও ১১ মার্চ তারিখে চারটি জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছানোর নির্ধারিত রয়েছে। পেট্রোবাংলার মতে, এই কার্গোগুলো ব্যবহার করে ১২ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব হবে।

মার্চ মাসের আমদানি পরিকল্পনা

মার্চ মাসে মোট ৯টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ৬টি কাতার থেকে এবং ২টি অস্ট্রেলিয়া থেকে আসার কথা। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত ও জটিল থাকায়, কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহে রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এই পদক্ষেপগুলি দেশের শক্তি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।