বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মুখোমুখি অগ্নিপরীক্ষা: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চ্যালেঞ্জ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। আজ শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহরের হোসেনপুরের নিজ বাসভবনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করেন।
বিদ্যুৎ খাতের জটিলতা ও মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'বিদ্যুৎ খাতে বিগত সময়ে রেখে যাওয়া বকেয়া এবং বর্তমানে যে পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করতে হবে, সব মিলিয়ে আমার জন্য কঠিন একটা অগ্নিপরীক্ষা।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি চেষ্টা করছি, কীভাবে এটা ম্যানেজ করে জনগণকে সুফল দেওয়া যায়।' এই মন্তব্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জটিলতা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে সরকারের প্রচেষ্টা
বিদ্যুৎমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রাণপণ চেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছে। এটি টেকনিক্যাল জিনিস, দু-একটা ফল্টের কারণে বিদ্যুৎ যেতে পারে। তবে বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ভালো থাকবে।' এছাড়াও, তিনি বর্তমান অগ্রাধিকারগুলো সম্পর্কে বলেন, 'বর্তমানে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের জন্য অগ্রাধিকার হচ্ছে রমজানটাকে ভালোভাবে চালানো। আর সামনের কৃষিসেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মকাল সামাল দেওয়া। এটি যদিও কঠিন। কিন্তু আমি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছি।'
সিরাজগঞ্জ সফরে মন্ত্রীর অভ্যর্থনা
দুদিনের সরকারি সফরে সিরাজগঞ্জ পৌঁছালে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে বিশেষ অভ্যর্থনা জানানো হয়। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়, যা রাজনৈতিক সম্প্রীতির একটি উদাহরণ। এরপর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে 'গার্ড অব অনার' প্রদান করা হয়। এই অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন, যা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মন্ত্রীর যোগাযোগকে নির্দেশ করে।
এই সফর ও আলোচনা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান অবস্থা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলোকে সামনে নিয়ে আসে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
