বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নতুন নেতৃত্বের ১০০ দিন ও ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নতুন নেতৃত্বের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে আগামী ১০০ দিন ও ৫ বছরের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এই পরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে ১০০টি নতুন কূপ খনন করে প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান করা হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) এবং চুক্তিভিত্তিক কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে নয়টি রিগের সাহায্যে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। এছাড়া আরও দুটি নতুন রিগ ক্রয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে দিনে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করা হবে এবং পরিত্যক্ত কূপগুলো থেকে গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ১৭টি কূপ খননের মাধ্যমে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিসমিক জরিপ ও এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন

তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সিসমিক জরিপ পরিচালনার বিষয়ে বলা হয়েছে, ১০০ দিনের মধ্যে ‘সিসমিক ডেটা অ্যাকুইজিশন’ শেষ করে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রস্তাব প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু করা হবে। পাঁচ বছর পর ভোলা, মনপুরা, হাতিয়া ট্রানজিশন এবং সুবর্ণচরের জরিপ সম্পন্ন করা হবে। এলএনজি অবকাঠামো স্থাপনের ক্ষেত্রে, কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোম নামে চতুর্থ ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে কমিশনিং শেষ করে পরিচালনা কার্যক্রম শুরু করা হবে। পাশাপাশি, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে পিপিপি (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব) পদ্ধতিতে ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার নিয়োগের কথাও ১০০ দিনের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্যাস সঞ্চালন ও স্মার্ট মিটার স্থাপন

গ্যাস সঞ্চালন লাইন সম্প্রসারণের পাশাপাশি, ১০০ দিনের মধ্যে সিস্টেম লস ৬ দশমিক ২৫ শতাংশে কমিয়ে আনা এবং পাঁচ বছরে তা ৪ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করা হবে। এছাড়া আবাসিক সংযোগে স্মার্ট মিটার স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এই উদ্যোগগুলো জ্বালানি খাতের দক্ষতা ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।