হরমুজ প্রণালি ঘিরে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। সোমবার (১১ মে) ব্রেন্ট ও মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই তেলের দাম বৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৮০ ডলারে উঠেছে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইরানের দেওয়া উত্তরে সন্তুষ্ট হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তেহরানের প্রতিক্রিয়াকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করার পর বাজারে নতুন করে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে তেল চলাচল এখনও স্বাভাবিক না হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বজায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে তেলের বাজার পুরোপুরি ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিনির্ভর হয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান থেকে আসা প্রতিটি বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
ট্রাম্পের বেইজিং সফর ও সম্ভাব্য আলোচনা
এদিকে, ট্রাম্পের আসন্ন বেইজিং সফর নিয়েও বাজারে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান ও হরমুজ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। বিশ্লেষকদের আশা, চীন তার কূটনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ইরানকে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরুদ্ধারে চাপ দিতে পারে।
সরবরাহ সংকট ও ট্যাঙ্কার ঝুঁকি
সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের জানিয়েছেন, গত দুই মাসে বিশ্ববাজার প্রায় ১ বিলিয়ন ব্যারেল তেল হারিয়েছে। ফলে সরবরাহ পুনরায় চালু হলেও বাজার স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে। শিপিং তথ্য অনুযায়ী, কিছু তেলবাহী ট্যাঙ্কার ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখেই হরমুজ অতিক্রম করছে, যাতে সম্ভাব্য হামলা এড়ানো যায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিতে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজে উত্তেজনা পুরোপুরি কমে না আসা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।



