নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে থাকলেও সরকার সৌরবিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের অগ্রগতির জন্য কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নীতিগত সহায়তা দিতে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং শিগগিরই নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা জানান। তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। তবে সরকার এখন সৌরবিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগোচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (স্রেডা) চেয়ারম্যান মুজাফফর আহমেদ, বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) চেয়ারম্যান এম. আজিজুর রহমান এবং খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল।
নতুন নীতিমালা ও বিনিয়োগ সহজীকরণ
মন্ত্রী আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণ সহজ করতে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে দ্রুত অগ্রগতির জন্য ইনভার্টার, ফটোভোল্টাইক প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।
ব্যাটারি স্টোরেজ ও নেট মিটারিং
একই সঙ্গে ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে শুধু দিনে নয়, সন্ধ্যার পিক আওয়ারেও বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা যায়। মন্ত্রী আরও বলেন, ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা হবে। নেট মিটারিং পদ্ধতির মাধ্যমে ভবন মালিকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
আগামী পাঁচ বছরে লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট
আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে দেশের জ্বালানি খাতের সাংবাদিকদের একমাত্র সংগঠন ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি)।



