নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলায় একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে বর্ষা আক্তার (২০) নামের এক গার্মেন্টসকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূর্ব নিমাইকাশারী এলাকার একটি বাসা থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিচয় ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট
বর্ষা আক্তার নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাজুরবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং আদমজী ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি স্বামী মামুনের সঙ্গে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। মামুনের বাড়ি ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায়।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা জানান, দুই থেকে তিন দিন আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বর্ষার শেষবার কথা হয়। এরপর থেকে তার মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, কয়েক দিন ধরে ঘরটির বাইরে তালা ঝুলতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল সন্ধ্যায় ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে তারা বিষয়টি বর্ষার পরিবার ও পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বর্ষার মুখ ও পা বাঁধা অবস্থায় অর্ধগলিত গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে।
পারিবারিক বিরোধের ইঙ্গিত
বর্ষার মা সুলতানা বেগম বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে মামুনের প্রথম স্ত্রীকে কেন্দ্র করে বর্ষার সঙ্গে বিরোধ হয়। এরপর থেকে বাসাটিতে মামুনের আসা-যাওয়া কমে যায়।
পুলিশের তদন্ত
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, বর্ষার স্বামীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।



