দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) কাঁচামাল সংকটে বন্ধ থাকার প্রায় তিন সপ্তাহ পর পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে একটি ট্যাংকার বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্যাংকার পৌঁছানোর বিবরণ
মঙ্গলবার (৫ মে) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘এমটি নাইনমিয়া’ নামের ট্যাংকারটি ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল নিয়ে মধ্যরাতে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া পয়েন্টে নোঙর করেছে। তেলটি চট্টগ্রামে খালাসের পর ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ৭ মে থেকে শোধনাগারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভিন্ন কৌশলে আমদানি
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি এড়াতে এবার আমদানিতে ভিন্ন কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ভাড়া করা ট্যাংকার এমটি নাইনমিয়া গত ২০ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দরে ভেড়ে এবং ২১ এপ্রিল চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বিএসসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক এ বিষয়ে বলেন, 'আমরা সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে এক লাখ টনের কার্গো লোড করেছি। আশা করছি আগামী ৯ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তেল খালাসের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।'
তেল খালাস প্রক্রিয়া
কুতুবদিয়া পয়েন্টে জাহাজটি পৌঁছানোর পর বিপিসি কর্মকর্তারা তেলের মান ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন। এরপর শুরু হয়েছে ‘লাইটারিং’ বা বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তরের কাজ। মোট ৮টি লাইটার জাহাজের মাধ্যমে এই তেল চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সংলগ্ন ডলফিন জেটিতে আনা হবে। সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পৌঁছাবে ইস্টার্ন রিফাইনারির স্টোরেজ ট্যাংকে।
উৎপাদন পরিকল্পনা
বিপিসি জানায়, বর্তমানে আসা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল থেকে ২৬ হাজার টন ডিজেল, ২৪ হাজার টন ফার্নেস অয়েল, ১৬ হাজার টন পেট্রোল, ২১ হাজার টন কেরোসিন এবং ৮ হাজার মেট্রিক টন অকটেন পাওয়া যাবে। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল কাঁচামাল সংকটে রিফাইনারির দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। নতুন এই চালান থেকে ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন, ফার্নেস অয়েল ও অকটেনসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন করা হবে।
চলমান সরবরাহ
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল দিয়ে শোধনাগারটি প্রায় ২৫ দিন চলতে পারবে। এরই মধ্যে আরও একটি ১ লাখ টনের চালান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে আসার কথা রয়েছে, যা মে মাসের শেষ দিকে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারে। বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি এড়িয়ে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য।



