বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, ইউনিটপ্রতি ১.৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব
বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, ইউনিটপ্রতি ১.৫০ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ১ দশমিক ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবের পটভূমি

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের বড় অংশ আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এছাড়া অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি উৎপাদনে না থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

উচ্চপর্যায়ের কমিটির পরামর্শ

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটির পরামর্শে বিদ্যুৎ বিভাগ সোমবার (৪ মে) দাম বৃদ্ধির এই প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে পাঠিয়েছে। তবে রীতি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো কমিশনের কাছে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়ে থাকে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে প্রস্তাব পেলে তা আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পিডিবির প্রস্তুতি

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ (পিডিবি) বিতরণ কোম্পানিগুলো প্রস্তাব পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুসারেই এটি তৈরি করছে। চলতি সপ্তাহেই সেগুলো বিইআরসিতে পাঠানো হতে পারে। এরপর বিইআরসি গণশুনানি করে দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেবে। জুনের শুরুতেই নতুন দর কার্যকর হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভর্তুকি চাপ কমানোর প্রচেষ্টা

জ্বালানি আমদানি ব্যয়ে ঊর্ধ্বগতি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের বড় ব্যবধান এবং ভর্তুকির বাড়তি চাপ সামাল দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে সরকার। ওই কমিটির পরামর্শেই বিদ্যুৎ বিভাগ প্রস্তাব দিয়েছে। পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিমও বলেছেন, তারা প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ করছেন।

বিশ্লেষকদের মতামত

বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এর ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও নতুন চাপ তৈরির শঙ্কা রয়েছে।

প্রস্তাবের বিস্তারিত

প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ১.৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে ব্যবহারভিত্তিক স্তর অনুযায়ী ভিন্ন হারে মূল্য সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে লাইফলাইন বা স্বল্প ব্যবহারকারী গ্রাহকদের (৭০ ইউনিট পর্যন্ত) আপাতত এই বাড়তি চাপের বাইরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়।

বর্তমান ঘাটতি ও ভর্তুকি

বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা দামের তুলনায় প্রায় ৫ টাকা ৫০ পয়সা বেশি। এই ঘাটতির কারণে ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আরও প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে এ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ দিয়েছে।