শরীয়তপুরের নড়িয়ায় কৃষকদের জ্বালানি তেল সংকট: ইঞ্জিন মাথায় করে ফিলিং স্টেশনে হাজির
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটাতে কৃষকদের এক অদ্ভুত ও বেদনাদায়ক ভোগান্তির চিত্র সামনে এসেছে। গত শনিবার উপজেলার ডগ্রী বাজারে অবস্থিত মেসার্স চোকদার ফিলিং স্টেশনে কয়েকজন কৃষককে দেখা যায়, তারা তাদের সেচের শ্যালো ইঞ্জিন মাথায় বহন করে স্টেশনে হাজির হয়েছেন। ড্রাম বা বোতলে তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়েই তারা এমন বিরল ও কষ্টকর পন্থা অবলম্বন করতে বাধ্য হন।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়া ও আলোচনার সূত্রপাত
এই ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, কৃষকরা অত্যন্ত পরিশ্রম করে সেচের ইঞ্জিনটি মাথায় করে নিয়ে ফিলিং স্টেশনের পাম্পের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। এরপর তারা সেখানে মেশিনটিতে তেল নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। মূলত খোলা পাত্রে তেল বিক্রির ওপর সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় কৃষকদের এই চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বক্তব্য
এ বিষয়ে মেসার্স চোকদার ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আব্দুল জব্বার জানান, সরকার নির্ধারিত নিয়মের বাইরে অনুমোদনহীন খোলা পাত্র বা ড্রামে জ্বালানি তেল বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসের চাহিদাপত্র বা অনুমোদনপত্র থাকলে ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে নির্ধারিত নিয়মে তেল সরবরাহ করা হয়।
তবে তিনি আরও যোগ করেন, কৃষকদের মধ্যে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, কোনো অবস্থাতেই বোতল বা ড্রামে তেল দেওয়া হয় না। আর এই তথ্যের অভাব থেকেই অনেকে বিড়ম্বনা এড়াতে ইঞ্জিন খুলে সরাসরি পাম্পে নিয়ে আসেন। আব্দুল জব্বার স্পষ্ট করে বলেন, ঘটনার দিন প্রশাসন থেকে খোলা পাত্রে তেল বিক্রি বন্ধের নির্দেশনা ছিল এবং সেই নির্দেশনা মেনেই পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল দেয়নি।
কৃষকদের জটিলতা ও হয়রানির চিত্র
পরবর্তীতে কৃষকরা বাধ্য হয়ে ইঞ্জিন নিয়েই হাজির হন। যদিও কৃষি অফিসের অনুমোদন থাকলে তেল পেতে কোনো বাধা নেই, তবুও নথিপত্র সংগ্রহের জটিলতা ও প্রচারণার অভাবে কৃষকরা প্রায়ই এমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কৃষিপ্রধান এই জনপদের কৃষকদের জ্বালানি তেল প্রাপ্তির সংকট ও পদ্ধতিগত জটিলতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সহজতর প্রক্রিয়া ও সচেতনতার দাবি
সেচ মৌসুমের এই সময়ে কৃষিকাজ অব্যাহত রাখতে তেল পাওয়ার প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজতর ও কৃষকবান্ধব করার দাবি জানিয়েছেন অনেকে। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিধিনিষেধের বিষয়ে কৃষকদের মাঝে সঠিক সচেতনতা তৈরিরও তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা মনে করেন, সরকারি নিয়মকানুন সম্পর্কে কৃষকদের পর্যাপ্ত তথ্য প্রদান ও সহায়তা করা গেলে এমন দুর্ভোগ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।



