চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে তিনটি ট্যাংকার পৌঁছেছে
চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ট্যাংকার পৌঁছেছে

চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে তিনটি ট্যাংকার পৌঁছেছে

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক লাখ টনেরও বেশি ডিজেল ও অকটেন বহনকারী তিনটি ট্যাংকার পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সহকারী ব্যবস্থাপক (গণসংযোগ, অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারজিন হাসান মৌমিতা নিশ্চিত করেছেন যে জাহাজগুলো বাংলাদেশের জলসীমায় রয়েছে এবং সেগুলো ধীরে ধীরে জেটিতে ভিড়বে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘শিগগিরই জ্বালানি খালাস করা হবে এবং এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।’

ট্যাংকারগুলোর বিস্তারিত তথ্য

বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও পরিচালনা) মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন জানান, জ্বালানিবাহী ট্যাংকারগুলোর মধ্যে এমটি লিয়ান সং হু প্রায় ৪১ হাজার টন ডিজেল এবং এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ভারত থেকে এসেছে। এছাড়া, এমটি নাভ সিয়েলো প্রায় ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে তাইওয়ান থেকে পৌঁছেছে। এই তিনটি ট্যাংকার মিলে মোট জ্বালানির পরিমাণ এক লাখ টনেরও বেশি, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কোম্পানি থেকে অকটেন সংগ্রহ

এদিকে, গত ১৯ দিনে বিপিসি তিনটি স্থানীয় বেসরকারি কোম্পানি থেকে ১৫ হাজার ১৭০ টন অকটেন সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছেন মৌমিতা। এর মধ্যে সুপার পেট্রো পিএলসি সর্বাধিক ১১ হাজার ৬১৫ টন অকটেন সরবরাহ করেছে, যা জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এই উদ্যোগটি দেশীয় উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির নির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য ট্যাংকার থেকে জ্বালানি খালাস

সোমবার ডলফিন জেটিতে আরও দু’টি ট্যাংকার থেকে জ্বালানি খালাস শুরু হয়েছে। এমটি ওকট্রি প্রায় ৩৫ হাজার টন ডিজেল এবং এমটি কেপ বনি প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে এসেছে, যা বন্দরের জ্বালানি মজুদকে আরও শক্তিশালী করছে। এই খালাস প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, বিপিসি কর্মকর্তারা আশাবাদী যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ শীঘ্রই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে উঠবে এবং ভোক্তাদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতা এবং বিপিসির সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে জ্বালানি আমদানি ও বিতরণ প্রক্রিয়া গতিশীল হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলো দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।