জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মন্ত্রীর স্পষ্ট ব্যাখ্যা: 'মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই লক্ষ্য'
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে দেশজুড়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির একটি ব্যাপক বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য পরিমিত পরিমাণে বৃদ্ধি করেছে, যার মুখ্য উদ্দেশ্য হলো মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাবকে ন্যূনতম পর্যায়ে রাখা।
জ্বালানি বৃদ্ধির প্রভাব সীমিত: মন্ত্রীর যুক্তি
মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, অনেকের ধারণার বিপরীতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব জীবনযাত্রার ব্যয় বা নিত্যপণ্যের মূল্যে অত্যধিক নয়। তিনি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন, খাদ্যদ্রব্য সরাসরি পেট্রোলিয়াম দিয়ে তৈরি হয় না, বরং কেবলমাত্র পরিবহন খরচেই জ্বালানির প্রয়োজন পড়ে।
এছাড়াও, তিনি উৎপাদন খাতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, পণ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ জ্বালানি খরচ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে, জ্বালানির দাম ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও মোট উৎপাদন খরচে তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হয়, যা মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও সরকারের সচেতনতা
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য ব্যবস্থাপনা একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার অধীন। তিনি উদাহরণ হিসেবে ভারতসহ উন্নত দেশগুলোর কথা টেনে আনেন, যেখানে আমদানি মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে খুচরা পর্যায়ের দামও সমন্বয় করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ট্যাক্স নীতির পার্থক্যের কারণে স্টেটভেদে ভিন্নতা থাকলেও, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাবে সেখানে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১০০ থেকে ১১৫ টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা একটি মডেস্ট ইনক্রিস বা পরিমিত বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত, যাতে করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি না হয়।
কৃষক ও অন্যান্য সেক্টরের সুরক্ষা
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বিশেষভাবে জোর দেন যে, সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট রয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন, কৃষক পর্যায়ে সেচপাম্প চালানোর জন্য বাড়তি ব্যয়ের বোঝা যাতে তাদের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার বিশেষ নজর দিয়েছে। মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব যেন বিভিন্ন অর্থনৈতিক সেক্টরে না ছড়ায়, সে লক্ষ্যে সরকার সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সিলেটে স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম
সোমবার সকালে সিলেটের অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে মাসব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মন্ত্রী। তিনি জনস্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতি দেশব্যাপী হামের প্রকোপ কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, শিগগিরই সিলেটে ২৫০ শয্যার একটি নতুন হাসপাতাল চালু করা হবে। তিনি স্বীকার করেন যে, সিলেট বিভিন্ন সামাজিক সূচকে পিছিয়ে রয়েছে এবং বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বৈষম্য দূর করার জন্য সরকার কাজ করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা
এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা সুফি মো. খালিদ বিন লুৎফুর, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং ইউনিসেফের সিলেট ফিল্ড অফিসের প্রধান মির্জা ফজলে এলাহী।



