যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে মারাত্মক সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ইরানের কৌশলগত কেশম দ্বীপে মার্কিন বিমানবাহিনীর বোমাবর্ষণ এবং এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় চরম অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় বাজার আরও বেশি অস্থির হয়ে উঠেছে।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাতের জেরে বুধবার সকালে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ০৫ ডলার বা ১ দশমিক ০৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৭ দশমিক ০৫ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ০১ ডলার বা ১ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ৭৭ ডলারে উঠেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং দুই পারমাণবিক শক্তির পাল্টাপাল্টি যুদ্ধংদেহী অবস্থানের কারণেই মূলত বিশ্বজুড়ে তেলের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটেছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনী একজোট হয়ে ইরানের অভ্যন্তরে একযোগে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায়।
পরবর্তীতে প্রতিবেশি দেশ পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব হলেও তা স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেয়নি। বরং যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের পর থেকেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় নতুন করে সামরিক চাপ ও পাল্টাপাল্টি হুমকি অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি ও কেশম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের এই বিবাদ চরম রূপ নিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে এবং আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই কেবল ইরানের সুনির্দিষ্ট কিছু সামরিক স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে উল্টো অভিযোগ করে বলা হয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের একটি বৈধ তেলবাহী জাহাজ এবং কেশম দ্বীপের প্রধান যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে অন্যায়ভাবে প্রথম আক্রমণটি চালিয়েছিল। মার্কিন এই বর্বরোচিত আগ্রাসনের জবাবেই মূলত ইরানের এলিট ফোর্স আইআরজিসি কুয়েত ও বাহরাইনসহ সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন নৌবহর ও প্রধান সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালায়।
উদ্ভূত এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার তীব্র উদ্বেগের মাঝেই বিশ্ববাজারে ফের তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন মন্দার আভাস দিচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা



